ভারতের কানপুরে ঘাতামপুর এলাকায় ভিতারগাঁও বেহাতা গ্রামে অবস্থিত একটি জগন্নাথের মন্দির ঝড়জলের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম বলে মনে করেন সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা।ওই মন্দিরের ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া যায় বলে ধারণা বিশ্বাসীদের।
প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি পুরানো এই মন্দিরটি ‘বৃষ্টি মন্দির’ নামেই পরিচিত। মন্দিরের ছাদে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা বড় হলে সে বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হবে বলে ধারণা করা হয়। অপরদিকে, বৃষ্টির ফোঁটার আকার ছোট হলে মনে করা হয় সে বছর অনাবৃষ্টি আসছে।
অনেক বিজ্ঞানী ও গবেষকই এই মন্দিরে গিয়েছেন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছেন। কিন্তু কেউই কোন রকম সমাধান খুঁজে পাননি এই রহস্যের।এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কে পি শুক্লা জানান, এই মন্দিরের নকশা খুবই স্বতন্ত্র। তিনি বলেন, ‘এমন নকশার মন্দির এই রাজ্যে আর নেই। নকশা অনেকটা অশোকের আমলে নির্মিত স্তুপার মত। আমার সাত পুরুষ এই মন্দিরের পূজাপাঠের দায়িত্ব পালন করে আসছে।’
তিনি আরও জানান, স্থানীয় কৃষকেরা বৃষ্টির প্রত্যাশায় এই মন্দিরে পূজা দেন। মন্দিরের কেন্দ্রীয় পাথরটিতে বৃষ্টির ফোঁটা দেখে তারা আসন্ন বর্ষা ঋতু সম্পর্কে ধারণাও পান।
আরও পড়ুন: দাউদ ইব্রাহিমের ‘ফোনকল পেয়ে’ বিপাকে ভারতীয় মন্ত্রী
তিনি বলেন, ‘একে কুসংস্কার বলতে পারেন, অথবা বিশ্বাসও বলতে পারেন। কিন্তু এই মন্দিরে এসে ইচ্ছা প্রকাশ করলে তা পূরণ হয় বলেই মনে করেন কৃষকরা।’
এই মন্দিরে জুলাই মাসে প্রতি বছর জগন্নাথের রথযাত্রা হয়। হাজার হাজার ভক্ত এতে অংশ নেন। এ ছাড়াও জন্মাষ্টমীতে মেলা বসে এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে।তবে রাজ্যের পুরাকীর্তি বিভাগের নথিভুক্ত হয়েও মন্দিরটির যথোচিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী ও গ্রামের প্রধান অঞ্জু সিং।
সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
/ইউআর/








