থাইল্যান্ডের কুখ্যাত ‘ব্যাঘ্র মন্দির’ পরিচালিত ও বাঘ পাচারের জন্য ব্যবহৃত এক কসাইখানার খোঁজ পেয়েছে থাই পুলিশ। মঙ্গলবার পশ্চিম থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি রাজ্যের ওই মন্দিরের ৫০ কিলোমিটার দূরে এক বাড়িতে কসাইখানাটির খোঁজ পায় পুলিশ।
থাই পুলিশের অপরাধ দমন বিভাগের কমান্ডার কর্নেল মন্ত্রি পঞ্চারন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই বাড়িতে চারটি জ্যান্ত বাঘ ও বেশ কিছু খালি খাঁচাও খুঁজে পায় পুলিশ। উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা ওই বাড়িটি পাচার করার বাঘ সংরক্ষণ ও জবাই করার জন্য ব্যবহৃত হতো বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘এই বাড়িতে কাটার আগে বাঘগুলোকে আটকে রাখা হতো বলেই আমাদের ধারণা। বাঘ কেটে চামড়া, হাড় ও মাংস বিদেশে পাচার করা হতো। থাইল্যান্ডের অনেক রেস্টুরেন্টেও বিদেশী পর্যটকদের জন্য বাঘের মাংস পরিবেশন করা হয়।’
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ মন্দিরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে সরকার
ওই বাড়ি থেকে বিশাল আকারের চপিং বোর্ড ও নানা রকমের মাংস কাটার ছুরিও আবিষ্কার করে পুলিশ। বাড়িটি থেকে আটক করা দুই তত্ত্বাবধায়ক দাবি করেন, জ্যান্ত ওই বাঘগুলি বাড়ির মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। পুলিশের অভিযানের সময় বাড়িতে ছিলেন না এই সম্পত্তির সত্ত্বাধিকারী।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওয়াত ফা লুয়াং তা বুয়া নামের ওই মন্দিরে ১৩৭ টি বাঘ আটকে রাখার খবর পাওয়া যায়। অভিযান চালিয়ে মন্দিরের ফ্রিজ থেকে ৪০ টি মৃত বাঘের ছানা আবিষ্কার করে পুলিশ। টাইগার টেম্পল বা ব্যাঘ্র মন্দির নামে পরিচিত ওই বৌদ্ধ মন্দিরে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও অভিযান চালিয়েছিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। তখন সেখান থেকে শিয়াল, ভালুক ও ধনেশ পাখি সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। টাইগার টেম্পল নামের এই মন্দিরে পর্যটকেরা অর্থের বিনিময়ে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখতে পারতেন, ছবিও তুলতে পারতেন, এমনকি সেগুলোকে খাবারও খেতে দিতে পারতেন। তবে পুলিশি অভিযান শুরুর পর মন্দিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
/ইউআর/








