ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে ব্রিটিশ জনগণের রায়ের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়াও বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের রেকর্ড পরিমাণ দরপতন হওয়া ছাড়াও এশিয়ার বাজারেও ধস নেমেছে। দরপতন হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রা র্যান্ডেরও। ২০০৮ সালের পর র্যান্ডের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এবার। এ ধরনের দরপতনের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে অন্য দেশগুলোও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সদস্য পদ প্রত্যাহার করে নিতে পারে। গোটা জুন মাস ধরেই এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা ছিল।ব্রেক্সিট প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায় আসবার আভাস পাওয়ার পর থেকেই নাটকীয়ভাবে কমে যায় পাউন্ডের মূল্যমান। এই দর গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। পাউন্ডের দর কমায় বিদেশ থেকে আমদানিতে বেশি অর্থ গুণতে হবে ব্রিটেনকে। অন্যদিকে পণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় লাভবান হবেন দেশটির রপ্তানিকারকরা।
এ ধরনের দরপতনের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা। যুক্তরাজ্যের ইটিএফ সিকিউরিটিজের গবেষণা ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রধান জেমস বাটারফিল বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ঘটনা। এর আগে এমনটা আমি কখনও দেখিনি। অনেক বিনিয়োগকারীই ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন।’
এদিকে ডলারের বিপরীতে ইউরোর মূল্য কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা কিনা ইউরোর ইতিহাসে প্রথম।
এশিয়া বাজারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সূচক কোসপি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯০৯ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ২০১১ সালের পর প্রথম ডলারের বিপরীতে কোরিয়ান মুদ্রার দাম সর্বোচ্চ কমল।
চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৮৫৭ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে হংকং এর স্টক এক্সচেঞ্চ হ্যাং স্যাং-এর সূচক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ৮৯৪ দশমিক ১২ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
আর ভারতের মুম্বাইয়ের সেনসেক্স সূচক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২৬ হাজার ২২ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ ডলার কমে যাওয়ায় র্যান্ডের মূল্যমানও কমে গেছে। অন্য পণ্য রফতানিকারক দেশগুলোর মুদ্রার তুলনায় র্যান্ডের দরপতন হয়েছে সবোর্চ্চ।
ব্রেক্সিটের প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা বাজারেও। সূচক এএসএক্স/ ২০০ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১০০ পয়েন্টে নেমে গেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, বিবিসি
/এফইউ/








