পরমাণু সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বা এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তির আশা এখনও রয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, চলতি বছরেই সদস্য দেশগুলো পুনরায় আলোচনায় বসছে, আর তখন ভারতের জন্য সুযোগ থাকবে অন্তর্ভুক্তির।
এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি আটকে গেছে চীনের বিরোধিতায়। চীনের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি বা এনপিটি সই না করে কোনও দেশ কীভাবে এনএসজি-তে প্রবেশাধিকার পেতে পারে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। আর এজন্য আরও আলোচনা হওয়া দরকার।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত বাধা কাটাতে সময় লাগে। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও ক্ষেপণাস্ত্র সংগঠন এমটিসিআর-এর সদস্য হতে ১০ বছর আগে আবেদন করেছিল ভারত। চলতি সপ্তাহে এই দুটি ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে। সিউল বৈঠকে দিল্লির উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এতে আরও সময় লাগবে।’
সিউল বৈঠকে নানা দেশের ভূমিকা নিয়ে কিছু ভুল তথ্য ছড়িয়েছে বলে দাবি স্বরূপের। তার মতে, কেবল একটি দেশই (চীন) বার বার ভারতের বিরোধিতা করেছে। অন্য কয়েকটি দেশ প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন তুলেছে মাত্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মেক্সিকোর প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরেই আবার বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে এনএসজি-র সদস্য দেশগুলো। তাতে পরমাণু অস্ত্র প্রসাররোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী নয়, এমন দেশগুলোকে এনএসজি-র সদস্য করা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার জন্য তৈরি কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাফায়েল গ্রোসি।
তবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশবন্ত সিংসহ কয়েকজন সাবেক কূটনীতিকের একাংশের মতে, এনএসজি-র সদস্যপদ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ভারত-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু চুক্তির সময়ে পাওয়া বিশেষ ছাড় অনুযায়ী, বেশকিছু ক্ষেত্রে এনএসজি সদস্য দেশের মতোই সুবিধা ভোগ করে ভারত। এদিকে চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিজাত ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাব এমটিসিআর-এর সদস্য হতে যাচ্ছে ভারত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা।
/এসএ/বিএ/








