প্রত্যক্ষভাবে জেরেমি করবিনের পক্ষে কোনও অবস্থান না নিলেও লেবার পার্টির সদস্য ও লন্ডনের মেয়র সাদিক খান দলীয় প্রধানের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দলের মধ্যেকার সাম্প্রতিক বিভক্তির কারণে লেবাররা আসন্ন নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে। নেতৃত্বের এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে তিনি নিজে কোনওভাবেই নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
গণভোটের প্রচারে যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন প্রধান দুই দলের নেতা ক্যামেরন ও করবিন। এতে ‘রিমেইন’পক্ষে শক্ত প্রচারণা না করতে পারার অভিযোগে দলের বেশিরভাগ এমপি করবিনকে অনাস্থা ভোট দেয়। তারপরও করবিন পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।মঙ্গলবার লেবার এমপিদের ভোটে করবিনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয় ১৭২-৪০ ভোটে। তবে ওই ভোটের ‘সাংবিধানিক বৈধতা’ নেই জানিয়ে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দেন করবিন।এতে জোরালো হয়ে ওঠে লেবার পার্টির নেতৃত্ব সঙ্কট। এই প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে সাদিক খান বলেন, ‘যখনই লেবাররা বিভক্ত হয়, তখনই তারা নির্বাচনে হেরে যায়।’
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিজস্ব সূত্রের বরাতে জানায়,অ্যাঙ্গেলা ঈগল করবিনের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে যাচ্ছেন। ব্রেক্সিট বলে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটেনের গণভোটের ‘লিভ’ পক্ষের জয়ের পর গত রবিবারই লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রীসভার যে কুড়ি জন সদস্য পদত্যাগ করেন, অ্যাঙ্গেলা ঈগল তাদের একজন। ওই গণ পদত্যাগের ঘটনাই জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে এমপিদের অনাস্থা ভোট দেয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়। তবে নেতেত্বের এই লড়াইয়ে নেই সাদিক খান। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে আবারও জানিয়ে দিতে চাই, সাম্প্রতিক এই নেতেৃত্বের লড়াইয়ে আমি জড়াব না।’
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন জেরেমি করবিন। ৬৭ বয়র বয়সী করবিনকে ডে ৩৬ এমপি সর্মথন দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে সাদিক খানও ছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত কোনওভাবেই ভুল ছিল বলে মনে করেন না সাদিক খান। ‘আমি মনে করি, সবথেকে যোগ্য ব্যক্তিকেই আমি সমর্থন দিয়েছিলাম’
তবে গণভোটে লেবারদের প্রচারণা সন্তুষ্ট করতে পারেনি সাদিক খানকে। তিনি বলেছেন, ‘আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, গণভোটের ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার কিংবা লিডস অথবা ওল্ডহাম, কিংবা ব্রাডফোর্ডের ভোটাররা লেবারদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন ছিল না।’ নির্বাচন জয়ের কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি বড় নির্বাচন জিততে, তা লন্ডনের মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রেই হোক আর সরকার প্রতিষ্ঠায় হোক... শুধুমাত্র গত নির্বাচনের লেবার সমর্থকদের বিবেচনায় নিলেই চলবে না। আপনাকে রক্ষণশীল সমর্থক, উদার গণতন্তেোর সমর্থক, গ্রীন মুভমেন্টের সমর্থকসহ সবার কাছেই ভোটের আহ্বান নিয়ে যেতে হবে।’ সূত্র: আলজাজিরা
/বিএ/








