তুরস্কের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় নিহত ৪২ জনের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফাথি বায়ুধ। তিউনিসিয়ার একটি সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন তিনি। ‘আইএসে যোগ দেওয়া’ ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে তিউনিসিয়া থেকে তুরস্কে গিয়েছিলেন। তবে ছেলেকে ফেরাতে গিয়ে নিজেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিযান খবরটি নিশ্চিত করেছে।
তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাথির ছেলে মেডিসিন অনুষদে পড়াশোনা করতেন। কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে প্রেমিকাসহ সিরিয়ায় পাড়ি দেন সেই ছেলে। এর পর ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ফাথি। সম্প্রতি ছেলেকে আইএস থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় তুরস্কে যান তিনি। ভেবেছিলেন, ছেলেকে বুঝিয়ে শুনিয়ে তিউনিসিয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হলো না।
মঙ্গলবার আতাতুর্ক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের নামের তালিকায় যুক্ত হয় ফাথির নামটিও।
সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাথির ছেলেকে সিরিয়া সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় তুর্কি সেনারা ফাথির ছেলেকে আটক করে রেখেছেন।
২০১১ সালে জেনে এল আবিদিন বেন আলির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের পর আরব বিশ্বে তিউনিসিয়াকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি মডেল হিসেবে হাজির করা হয়। কিন্তু দেশটি ইরাক ও সিরিয়ায় বিদেশি জঙ্গি নিয়োগের একটি বড় উৎসও। তিউনিসিয়ার সরকারের হিসেব অনুযায়ী, সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি তিউনিসীয় আইএস ও অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হয়ে কাজ করতে সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়ায় গিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ কমান্ডিং অবস্থানে রয়েছেন। এদের অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমে জিহাদি সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/








