হোয়াইট হাউজ শোক বার্তায় বলা হয়, আব্দুস সাত্তার ইধি ছিলেন বিশ্বের অনন্য এক মানবাধিকার কর্মী। প্রায় ৬০ বছর আগে পাকিস্তানের করাচীতে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী বিলকিস মেডিকেল ক্লিনিক গড়ে তুলেছিলেন। তার মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অনুন্নত অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি। সেই সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের জন্য পর্যায়ক্রমে গড়ে তুলেছিলেন নার্সিং হোম আর এতিমখানার মতো প্রতিষ্ঠান; যার মধ্যে ছিল মেটার্নিটি ওয়ার্ড, নারীদের আশ্রয়কেন্দ্র, পূনর্বাসন কেন্দ্র এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী এ্যাম্বুলেন্স বহর।
শোকবর্তায় বলা হয়, পাকিস্তানের সীমান্ত ছাড়িয়ে এদাহীর জনহতৈষী ফাউন্ডেশনের কাজকর্ম বিভিন্ন দেশে বিস্তৃতি লাভ করে। ইধি নিজেই এ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে অসুস্থ মানুষের সেবা করতেন।
শোকবর্তায় আরও বলা হয়, ইধি তাঁর জীবনকে নিবেদিত করেছিলেন মানুষের সেবায়। তিনি ধর্ম বর্ন জাতিভেদে সকলের জন্য সমান চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি। বিলকিস এবং তাঁদের চার সন্তানসহ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ; যাদেরকে সেবা দিয়ে ইধি সুস্থ্য করে তুলেছেন তারা এবং পাকিস্তানের সকলের প্রতি আমরা সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
উল্লেখ্য, আব্দুল সাত্তার ইধিকে বলা হত পাকিস্তানের জীবন্ত পূণ্যাত্মা। ৮ জুলাই শুক্রবার তার জীবনের সচলতার অবসান হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সে সময় জানায়, পাকিস্তানের বিখ্যাত সমাজকর্মী আব্দুল সাত্তার ইধি আর নেই। শুক্রবার করাচি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
গত মাসে আব্দুল সাত্তারকে বিদেশে চিকিৎসার অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। তবে ইধি জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল পাকিস্তানের সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নেবেন, অন্য কোথাও নয়।
১৯২৮ সালে ভারতের গুজরাটে জন্ম ইধির। জনসেবামূলক কার্যক্রমের জন্য ১৯৮৬ সালে র্যামন ম্যাগসেসে সম্মাননা পেয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে অ্যাম্বুলেন্স, এতিমখানা, নারী আশ্রয় কেন্দ্র, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ ও মর্গ পরিচালনা করে ইধি ফাউন্ডেশন। যেখানে দুর্নীতির কারণে সরকারি সেবা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, সেখানে ঈদী ফাউন্ডেশন ছিল মানুষের ভরসার অন্যতম জায়গা।
সমাজকর্মী আব্দুল সাত্তার যুদ্ধবিরোধী ছিলেন। তিনি সব ধরণের নৃশংসতা, অপরাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। পাকিস্তানে তিনি ‘মাদার তেরেসা’ বলে খ্যাত। তার ঈদী ফাউন্ডেশন পাকিস্তানের অন্যতম সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাকে বলা হয় ‘লিভিং সেইন্ট’ বা জীবন্ত পূণ্যাত্মা।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
/বিএ/








