কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তুর্কি সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার পক্ষে নয়। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারি দল একেপির প্রতিও তাদের সমর্থন নেই।শনিবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একেপির ফ্যাসিবাদই তুর্কি সেনাবাহিনীকে কুরদিশ নগর ও শহরগুলোতে তাণ্ডব চালিয়ে সাধারণ জনগণ হত্যায় উদ্বুদ্ধ করেছে। উপরন্তু তারা সেনাবাহিনীর বিচার করার জন্য নতুন আইন চালু করেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার আগে থেকেই সেনা অভিভাবকত্ব ক্রিয়াশীল ছিল যা সেনাবাহিনীর একাংশকে অভ্যুত্থানের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমন করে ফেলতে সমর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো তুরস্ক সরকারকে গণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করতে পারে বলেও আশংকা প্রকাশ করে পিকেকে।
পিকেকের মতে, ‘তাইয়েব এরদোয়ান ও ফ্যাসিবাদী একেপি শাসকদের গণতান্ত্রিক হিসেবে চিহ্নিত করা এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।’
‘এই দ্বন্দ্বে গণতন্ত্র কোন পক্ষেই যাবে না। যদি গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান হতো তাহলে তা যেতো, কিন্তু এই অভ্যুত্থান হয়েছে ফ্যাসিবাদী একেপি সরকারের বিরুদ্ধে। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করে তুরস্কের এই ফ্যাসিবাদী একেপি সরকারের কব্জা থেকে মুক্তি ও একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে।
আরও পড়ুন: তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত অভিযোগে ‘আটক ৬ হাজার’
টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থান চেষ্টায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিহতের এ সংখ্যা জানানো হয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ২৬৫ বলে জানানো হয়েছিল।
সূত্র: এআরএ নিউজ, আল-জাজিরা, রয়টার্স
/ইউআর/








