বেলারুশের প্রখ্যাত সাংবাদিক পাভেল শেরেমেট ইউক্রেনে এক বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। বুধবার ইউক্রেনের কিয়েভে তার গাড়ির নিচে স্থাপিত বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন পাভেল। পাভেল (৪৪) ইউক্রেনিস্কা প্রাভদায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের জন্য কাজ করতেন তিনি।
ইউক্রেনিস্কা প্রাভদা জানায়, গাড়ি বিস্ফোরণের সময় তিনি ভেস্তি নামের একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন রেডিও স্টেশনে যাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি সকালবেলার একটি শো পরিচালনা করতেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পেরেশেঙ্কো এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ভয়ঙ্কর অপরাধ’ আখ্যায়িত করেছেন ও ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পেরেশেঙ্কো আরও জানান, তিনি পাভেল হত্যার তদন্ত করতে এফবিআই এবং ইইউসহ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাহায্য চেয়েছেন।রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ঘৃণ্য’ ও ‘নির্দয়’ বলে অভিহিত করে শোক প্রকাশ করা হয়। পাভেলের সহকর্মীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সময় বলেন, ‘পাভেল ছিলেন একজন তারকা ও আমাদের সকলের জন্য বাতিঘরের মতো। তিনি আধুনিক সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীরভাবে বুঝতে পারতেন।’ ইউক্রেনস্কা প্রাভদার সাংবাদিকরা আরও বলেন, ‘পাভেল আমাদের অফিসের জন্য অত্যন্ত প্রেরণাদায়ী অবদান রেখেছেন।’
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অবস্থায় গাড়িটিকে দেখতে পাওয়া যায়। পাভেলই ছিলেন ওই গাড়ির একমাত্র আরোহী। গাড়িটির সত্ত্বাধিকারী ইউক্রেনস্কা প্রাভদার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ওলেনা প্রিতুলা।
আরও পড়ুন: ‘টপ টেন ক্রিমিনাল তালিকা’য় মোদি, গুগলের বিরুদ্ধে মামলা
প্রেসিডেন্ট পেরেশেঙ্কোর সঙ্গে এক বৈঠকে জাতীয় পুলিশ প্রধান খাতিয়া দেকানোদজে জানান, পাভেলের গাড়ির নিচে যে বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল তা প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম টিএনটির সমান ক্ষমতাসম্পন্ন।
উল্লেখ্য, পাভেল সাংবাদিকতায় সাহসী অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০১ সালে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপের জারনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পুরস্কার অর্জন করেন। বেলারুশিয়ান বংশোদ্ভূত পাভেল ছিলেন বেলারুশ, ইউক্রেন ও রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতাদের কট্টর সমালোচক। তিনি ইউক্রেনে গত ১৬ বছরে নিহত সংবাদকর্মীদের মধ্যে উজ্জ্বলতম সাংবাদিক। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সমালোচনা করে প্রতিবেদন করায় ১৯৯৭ সালে কারাবাসও করেন পাভেল। সে সময় তার নাগরিকত্বও কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের জন্য কাজ করেন। সূত্র: সিএনএন
/ইউআর/বিএ/








