ভারতীয় গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, সিরিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নাকি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ভারতের হায়েদ্রাবাদের এক তরুণী। সংগঠনটির হায়েদ্রাবাদ ইউনিটের হয়ে কাজ করছিল সে। ওই তরুণী গ্রেফতারকৃত এক আইএস সদস্যের বোন। ‘জিহাদি মেট্রিমোনি’ নামের একটি পাত্র-পাত্রী সন্ধানকারী ওয়েবসাইটের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতা ছিল তার। দুই সিরীয় জিহাদি নাকি তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিল!
সোমবার ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ-এর দায়ের করা এক অভিযোগপত্রে এসব লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। তবে সেই অভিযোগপত্রে ওই তরুণীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি। সে কারণে তার নাম উল্লেখ করেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
এনআইএ’র অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ওই তরুণীর ভাইকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। ওই তরুণী আইএসের হায়েদ্রাবাদ ইউনিটের সক্রিয় সদস্য ছিল। ওই ইউনিটের সদস্য সংখ্যা ছিল ৯ জন।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ওই নারীকে কাউন্সেলিং করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করায় ওই তরুণীর নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না। অবশ্য অভিযোগপত্রে ওই নারী যে আইএসের হায়েদ্রাবাদ ইউনিটের অংশ ছিল তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।
এনআইএ’র তদন্ত সূত্রকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও জানায়, সিরিয়াভিত্তিক আইএস নেতা আবু জাকারিয়া হায়েদ্রাবাদ ইউনিট এবং ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। আইএস সদস্যদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে ‘জিহাদি মেট্রিমোনি’ একটি পাত্র-পাত্রী সন্ধানকারী ওয়েবসাইট খুলেছিলেন জাকারিয়া। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সিরিয়াভিত্তিক আরেক আইএস নেতা আবু জাকারিয়ার সঙ্গে ওই তরুণীর ভাইয়েরও যোগাযোগ ছিল। হায়েদ্রাবাদ ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরা ছাড়াও ওই তরুণীর সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ ছিল তার। ওই তরুণীকে বিয়েও করতে চেয়েছিল জাকারিয়া। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘জাকারিয়া সাধারণত দলীয় আলোচনা (গ্রুপ ডিসকাশন) করে থাকে এবং আইএসের মতাদর্শের প্রচারণা চালায়। জাকারিয়ার পাশাপাশি সিরিয়াভিত্তিক আরেক আইএস সদস্য হামজা আল মুজাহির ওই তরুণী ও তার ভাইয়ের সঙ্গে (এখন গ্রেফতার রয়েছে) নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।' এনআইএ’র অভিযোগপত্রে বলা হয়, জাকারিয়ার মতো তিনিও ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার আইএসের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে এনআইএ। এ তিনজন হলো- জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দা শেখ আজহার উল ইসলাম, কর্নাটকের ভাটকালের বাসিন্দা আদনান হাসান এবং মহারাষ্ট্রের মুমব্রা-এর বাসিন্দা মোহাম্মদ ফারহান শেখ। আদনান হাসানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ওই তরুণীর ভাইয়ের। ভারতের কল্যান এলাকাভিত্তিক আইএস সদস্য আরিব মাজিদ এবং ফাহাদ শেখের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। আরিব ও ফাহাদ দুজনই সিরিয়ায় নিহত হয়েছে বলে মনে করা হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/বিএ/








