আসছে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে রাজনৈতিক বিতর্কের উত্তাপ। পরস্পরকে তীব্র আক্রমণ করে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের যোগ্যতা নিয়ে। বিশ্বরাজনীতির বোঝাপড়ায় তাকে অজ্ঞ বলে রায় দিয়েছেন ওবামা। ট্রাম্পকে প্রার্থী করায় রিপাবলিকানদের একহাত নিয়েছেন তিনি। প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে দায়ী করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওই দুই ডেমোক্র্যাট মিলে ইরাক-সিরিয়া-লিবিয়াকে আইএস-এর হাতে তুলে দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এভাবেই মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর পথ তৈরি করেছেন তারা।
ইরাক যুদ্ধে নিহত এক মুসলিম সেনার বাবা-মা’র উদ্দেশে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্য থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
২০০৪ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে বাগদাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খান নামের এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাটিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই নীতি যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে তার ছেলে কখনোই মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করার সুযোগ পেত না। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমেরিকাকে সুরক্ষিত রাখতে জীবন দেওয়া সাহসী দেশপ্রেমীদের সমাধি দেখে আসুন। আপনি দেখতে পাবেন সব ধর্মের, লিঙ্গের ও জাতির মানুষ রয়েছেন সেখানে।’ খিজির খান তার এই বক্তব্যের জন্য প্রশংসিত হলেও ট্রাম্প এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। পাশাপাশি আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
ডেমোক্র্যাটিক সম্মেলনে খিজির খানের স্ত্রী গাজালা কোনও কথা বলেননি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, হয়তো তাকে কথা বলতে দেওয়াই হয়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন, মুসলিম পারিবারিক নিয়মে মেয়েদের নীরব থাকাই নিয়ম। কারণ তারা স্বামীর অনুগত। পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এক টিভি সাক্ষাৎকারে খিজির খান বলেন, ‘একজন নিহত সৈনিকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ট্রাম্প তা জানেন না।’
এই প্রেক্ষাপটেই আবারও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন ওবামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আসলে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য আর এশিয়া সম্পর্কে জটিল সমস্যাগুলো সম্পর্কে ন্যূনতম কোনও ধারণা নেই ট্রাম্পের। সে কারণেই তিনি একটি গোল্ডস্টার পরিবারকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হয়, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ট্রাম্প তৈরি নন।’
ওবামার এই মন্তব্যে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি ট্রাম্প। তবে ওবামা-হিলারি দুইজনকেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তিনি তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। মার্কিন সেনাদের মৃত্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইএস-এর উত্থানে দায়ী করেন তাদের দু’জনকে। ওবামার সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি খুবই ভয়াবহ। তিনি সম্ভবত মার্কিন ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট। তিনি পুরোপুরি একটা দুর্যোগ।’
বিশ্বরাজনীতি প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, কোনও দেশেরই প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা নেই হিলারির। ওবামা-ক্লিনটন দুজনে মিলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করেছে। ইরাক-সিরিয়া-লিবিয়াকে আইএস-এর হাতে তুলে দিয়েছে। আমাদের সেনাদের ঠেলে দিয়েছে জবাই হওয়ার পথে।’
এর আগেও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের যোগ্যতার প্রশ্ন উঠেছিল। পরস্পরের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন হিলারি-ট্রাম্প। প্রার্থিতার লড়াই চলমান থাকা অবস্থায় গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রনীতির জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হিলারি। জবাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প বলেন, হিলারির বিচার বিবেচনা খারাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এই নাজুক ও কঠিন সময়ে তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা নেই।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রার্থিতার লড়াই শুরুর পর বেশ কয়েকবার ভয়াবহ বিতর্কে জড়িয়ে পড়িছেলেন হিলারি-ট্রাম্প। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সভায় হিলারিকে নিয়ে অশ্লীল মন্দেব্যের অভিযোগও রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ওবামা-ট্রাম্প পালটাপাল্টির পূর্ব নজিরও রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি, গার্ডিয়ান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব ক্যাম্পেইন ওয়েবসাইট।
/বিএ/








