যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মুসলমান আর শরণার্থীদের প্রতি ঘৃণাকে রাজনৈতিক উপজীব্য করেছেন তখন সেই মুসলমান কিংবা শরণার্থীদেরকে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দ্য হাফিংটন পোস্টের এক খবরে ওবামার ওই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বরে গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ার অন্ততপক্ষে ১০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সরকারকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় শরণার্থীদের প্রতি যথেষ্ট মনযোগী নয়, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওবামা ১০ হাজার সিরীয় শরণার্থী গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
হাফিংটন পোস্ট বলছে, ওবামার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এদের চার ভাগের তিন ভাগই নারী ও শিশু। এ প্রসঙ্গে শুক্রবার দেশটির জনসংখ্যা ব্যুরোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যানি রিচার্ড জানান, চলতি অর্থবছরে ৮ হাজারের মত সিরীয় শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। এদের প্রায় ৪৬শ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং ৭৮ ভাগই নারী ও শিশু। তিনি আরো জানান, সিরিয়া থেকে যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে তাদের ৯৯ ভাগই মুসলিম।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বাকি ২ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওবামা। হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কমপক্ষে আরো ২ হাজার শরণার্থীকে সেখানে আশ্রয় দেয়া হবে। বাস্তবায়ন করা হবে ওবামার প্রতিশ্রুতি। হাফিংটন পোস্টের খবর অনুযায়ী, বিরোধী দল রিপাবলিকান নেতাদের সমালোচনা এবং ওই একই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের শরণার্থী বিরোধী বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করেই নিজের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অটল রয়েছেন ওবামা।
উল্লেখ্য, সিরীয় শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে ঠাঁই দিতে রাজি না রিপাবলিকান দলটি। তাদের যুক্তি হচ্ছে, এসব লোকজনকে আশ্রয় দিলে দেশে সন্ত্রাস হামলা বৃদ্ধি পাবে। গতবছর বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যের গভর্নররা তাদের সীমানায় শরণার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করারও পাঁয়তারা করেছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওবামার চাপের মুখে তাদের সেই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হয়নি।
/বিএ/








