পৃথিবীকে বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত করার জন্য যেসকল মার্কিনি দায়ী তারাই এখন তাকে ‘বেপরোয়া’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচিত হলে ট্রাম্প ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বেপরোয়া প্রেসিডেন্ট হবেন’ উল্লেখ করে ৫০ জন রিপাবলিকান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে খোলা চিঠি প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্পের সমালোচনা করে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘তার (ট্রাম্পের) সাধারণ জ্ঞান কম এবং মার্কিন সংবিধান, মার্কিন আইন, ধর্মীয় সহনশীলতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন বিচার বিভাগের প্রতি বিশ্বাসের অভাব রয়েছে।’ মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যে কর্তৃত্ব রয়েছে তাকে ট্রাম্প দুর্বল করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয় ওই চিঠিতে। স্বাক্ষরকারী ৫০ জনের কেউই ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়। অবশ্য একইরকমই একটি চিঠিতে এ স্বাক্ষরকারীরাই গত মার্চে স্বাক্ষর করতে রাজি হননি।
স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক পরিচালক মাইকেল হেইডেনের নামও। ট্রাম্প সম্পর্কে তিনি বলেন,‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী এবং অভিজ্ঞতা তার নেই।’ স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন,সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন নেগ্রোপন্টি ও রবার্ট জোয়েলিক।
রিপাবলিকান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দেওয়া এ চিঠির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন সেইসব মানুষ যাদেরকে মার্কিন জনগণ জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার জন্য খুঁজছে। যাদের কাছে মানুষ জানতে চায়, পৃথিবীতে কেন এত বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তারা এখন সামনে চলে আসায় তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে পারি। কারণ প্রত্যেকে এখন জানতে পারবে যে পৃথিবীকে বিপজ্জনক জায়গা করে তোলার জন্য কারা দায়ী।’
ট্রাম্পের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চিঠিতে স্বাক্ষর প্রদানকারী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একসময় হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ইরাকে অভিযান চালানোর মতো সর্বনাশা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মার্কিনিদের অনেকে বেনগাজিতে নিহত হয়েছিলেন। তারাই আইএস এর উত্থান হতে দিয়েছিলেন।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে রিপাবলিকান জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কয়েকজনের কণ্ঠে একই ধরনের সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল সার্ভার হ্যাক করার জন্য ট্রাম্প রাশিয়াকে উদ্বুদ্ধ করায় নতুন করে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর এ চিঠি তারই রেশ।
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির মুখপাত্র ওয়াদি গাইতান জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে প্রার্থী করায় তিনি রিপাবলিকান পার্টি ছাড়তে যাচ্ছেন।
ট্রাম্পকে সমর্থন না দেওয়াদের তালিকায় আরও রয়েছেন, ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ, সাবেক ফার্স্ট লেডি বারবারা বুশ, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম কোহেন, অ্যারিজোনার সিনেটর জেফ ফ্লেইক, সাউথ ক্যারোলিনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, ম্যারিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হোগান, ওহিওর গভর্নর জন কাসিচ, ইলিনয়ের সিনেটর মার্ক কার্ক, ম্যাসাচুসেটসের সাবেক গভর্নর মিট রমনি, ফ্লোরিডার কংগ্রেস সদস্য ইলিয়েনা রস-লেহতিনেন এবং নেব্রাস্কার সিনেটর বেন স্যাশি।
ওই খোলা চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি বহু বছর ধরে চলে আসা রিপাবলিকান পররাষ্ট্রনীতি একাধিকবার ভঙ্গ করেছেন। চিঠিতে বলা হয়, সামরিক জোট ন্যাটো-র প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত কিনা, তাকে ট্রাম্প প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি নিপীড়নকে সমর্থন করেছেন। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়া উচিত বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। এক মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে তিনি মার্কিন নৈতিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করেছেন বলে চিঠিতে ট্রাম্প সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/








