সিরিয়ার মানবিজ শহরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর হাতে জিম্মি দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স (এসডিএফ)-এর এক মুখপাত্র। মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরিও একই কথা জানিয়েছে।
এসডিএফ জানিয়েছে, উত্তর সিরিয়ার মানবিজ শহরকে আইএস-এর হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে। ৭৩ দিন যুদ্ধের পর তারা শহরটি দখল করে দুই হাজারেরও বেশি জিম্মি নাগরিককে মুক্ত করেছে।
কুর্দি ও আরব যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত এসডিএফ মার্কিন বিমান হামলার সহায়তায় আইএস নিয়ন্ত্রিত মানবিজ দখল করতে সক্ষম হয়। পেন্টাগনের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি গর্ডন ট্রোব্রিজ বলেছেন, ‘যদিও মানবিজে এখনও সংঘর্ষ চলছে, তবে শহরের কেন্দ্রে আইএস-এর পতন হয়েছে।’
মানবিজে এসডিএফ-এর সেনা কাউন্সিলের শাফরান দারবিশ জানিয়েছেন, এখন শহরটি পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মানবিজ জেলা থেকে সরে যাওয়ার সময় আইএস নিকটবর্তী আল-সির্ব থেকে প্রায় দুই হাজার বেসামরিক মানুষকে অপহরণ করে। তারা ওই জিম্মিদের ‘মানব-ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিল। এজন্য জারাবুলুস এলাকা অতিক্রম করার সময় আমরা তাদের ওপর হামলা চালাতে পারছিলাম না।” পরে আইএস সদস্যরা ওই জিম্মিদের ফেলে সরে পরে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসও জানিয়েছে, মানবিজে ওই জিম্মিদের আইএস ‘মানব-ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছিল। আইএস ওই জিম্মিদের গাড়িতে করে জারাবুলুসের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল বলে সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে।
আইএস তুরস্ক সীমান্তবর্তী এই মানবিজ শহরটি দুই বছর আগে দখল করে নিয়েছিল। সিরিয়ার আলেপ্পো ও আইএসের রাজধানী রাক্কা যেতে এই শহরকে ব্যবহার করতে হয়।
এ বিষয়ে সিরিয়ার কুর্দি নেতা সালিহ মুসলিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবিজ দখলের পর আইএস আর মুক্তভাবে বিচরণ করতে পারবে না এবং তারা আর ইউরোপেও যেতে সক্ষম হবে না।’
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিদেশবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইএস সিরিয়া, ইরাক এবং এই অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে ছিল। শুধু তাই নয়, তারা ইউরোপেও পাড়ি জমাতো।’
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/








