সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধে গত শনিবার পর্যন্ত ১৫ দিনে অন্তত ৩২৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭৬ জন শিশু এবং ৪১ জন নারী রয়েছেন। সিরিয়াজুড়ে প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত বাহিনী ও সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)-এর বরাত দিয়ে আল জাজিরা’র খবরে বলা হয়েছে, প্রাণহানির শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিহত হয়েছেন আলেপ্পোতে।
শুধু গত শুক্রবারই ৯০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। আর শনিবার রাতে নিহত হন আরও ৮৩ বেসামরিক নাগরিক। এ দুইদিনে নিহতদের মধ্যে ২২ শিশু ও ২৩ নারী রয়েছেন।
রাশিয়ার অব্যাহত বিমান হামলার প্রেক্ষিতে সিরিয়ায় আলেপ্পো নগরীতে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণবহর পৌঁছানোর জন্য দৈনিক তিন ঘণ্টা বিমান হামলা বন্ধ রাখা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেটা কার্যকর করেনি মস্কো।
রাশিয়া তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় যে সময়টাতে হামলা বন্ধ থাকা অর্থাৎ আংশিক যুদ্ধবিরতির কথা ছিল, সে সময়টাতেও ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে সিরিয়ার আসাদ সমর্থক ও আসাদবিরোধী বিদ্রোহীরা।
রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তার জন্য মানবিক ত্রাণবহরও উপদ্রুত এলাকায় প্রবেশ করতে পারছে না।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের কাছ থেকে আলেপ্পোর দক্ষিণের কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত বাহিনী।
এর আগে আলোপ্পোয় সহস্রাধিক সেনা মোতায়েন করেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। আসাদের অনুগত সেনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ’র মিলিশিয়ারাও। উভয় পক্ষ মিলে সেখানে তিন হাজার সেনা সমাবেশ করেছে। সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের ঠেকাতে এবং তাদের হাতে হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে সেখানে এ সেনা সমাবেশ করা হয়।
আলেপ্পোয় সরকারি বাহিনীর অবরোধ ভাঙার বিদ্রোহীদের প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক এ লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়। সম্প্রতি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা আলেপ্পো নগরীর দখল নিয়েছে। তবে আসাদ বাহিনীর পক্ষ থেকে সেই দাবি অস্বীকার করা হয়। বিদ্রোহীদের দাবি, তারা আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আসাদ বাহিনীর সঙ্গে সেখানে একযোগে হামলা শুরু করে রাশিয়া।
বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাহ’র যোদ্ধারা।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সানা’র খবরে বলা হয়েছে, ‘আলেপ্পোর দক্ষিণে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তীব্র হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’
উল্লেখ্য, আলেপ্পো একসময় সিরিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচিত হতো। এই নগরীতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছে যার অনেক কিছুই গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা।
/এমপি/








