সিএনএন-এর রোষানলে ডোনান্ড ট্রাম্প

বিদেশ ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০১৬, ১৯:২১আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৬, ১৯:২১
image

ট্রাম্প ও সিএনএন-এর লোগো ক্যাম্পেইনের পুরোটা সময়জুড়ে ইসলাম-অভিবাসন-সন্ত্রাসবাদ-মুক্তবাজার প্রশ্নে বিভিন্ন ধরনের রেটরিক (অলঙ্করণকৃত শব্দ) ব্যবহার করে আসছেন মার্কিন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিপাকে পড়ে গেলে মাঝে মাঝেই নেতিবাচক বক্তব্যকে ইতিবাচকতার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টাও করতে দেখা গেছে তাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ট্রাম্প সামলাতে পারেন না শেষপর্যন্ত। অথবা তা জরুরি মনে করেন না। তাই তার স্ববিরোধগুলো নগ্নভাবে হাজির হয় সংবাদমাধ্যমে। এবার নিজের বক্তব্যকে ঘুরিয়ে দিতে গিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর রোষানলে পড়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘আক্ষরিক অর্থে (লিটারালি) আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে  পড়েন ট্রাম্প। বিপাকে পড়ে নিজের বক্তব্যকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ দাবি করে অবস্থান পাল্টান এ রিপাবলিকান প্রার্থী। নিজের পক্ষে যুক্তি হাজিরের চেষ্টা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত খবরকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ওবামার সম্পর্কে ওই কথাটি ব্যঙ্গ করে বলেছেন। সিএনএন ‘কর্তৃপক্ষ কি ব্যঙ্গ বোঝে না?’
ট্রাম্পের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনের শুরুতেই উঠে আসে বিল ক্লিনটনের প্রসঙ্গ। মনিকা লিউনিস্কির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্লিনটন বলেছিলেন, ‘আমাদের মধ্যে সেই ধরনের কিছু নেই’। পরে ওই ঘটনা ফাঁস হলে ক্লিনটনকে বিচার বিভাগ জিজ্ঞেস করে কেন তিনি মিথ্যা বলেছিলেন। জবাবে ক্লিনটন বলেছিলেন, ‘নেই’ (ইজ) মানে আসলে এমন না যে তা কখনও ‘ছিল’ (ওয়াজ) না।  সেই ঘটনার উল্লেখ করে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শব্দের অর্থ বোধহয় ক্ষণে ক্ষণেই বদলাতে পারে। বিশেষ করে তা যখন কোনও রাজনীতিবিদরা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রে একসময় ‘লিটারেলি’ শব্দটি বলতে বোঝাতো ‘আক্ষরিক অর্থে’।

সিএনএন-এর দাবি ওই ‘ইজ-ওয়াজ’ কিংবা ছিল ‘না-নেই’ এর মতো করেই ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে ‘লিটারেলি’ কিংবা ‘আক্ষরিক অর্থে’ শব্দটির অর্থ বদলাতে শুরু করে। রাজনীতিবিদ ‘লিটারেলি’ শব্দটিকে ‘মেটাফোরিক্যালি’ শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ব্যবহার করতে শুরু করলে ‘আক্ষরিক অর্থে’ শব্দটির মানে বদলে যায়। আক্ষরিক আর আক্ষরিক থাকে না। অভিধানে এর ভিন্ন অর্থ লিপিবদ্ধ হয়। আক্ষরিক বলতে তখন থেকে হুবহু কোনওকিছু নয়, বরং জোর দিয়ে কিছু বলাকে বোঝানো হয়। সিএনএন বলছেন, সেই বদলে যাওয়া অর্থকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে নিজের অবস্থান পাল্টানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। বলতে চাইছেন, আক্ষরিক অর্থে নয়, ব্যাঙ্গ করে ওবামার আইএস সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্প ও ওবামা
সিএনএন-এ প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প যে ব্যঙ্গ করে কথাটি বলেননি তা নিশ্চিত। কেননা, বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রক্ষণশীল ধারার রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইট এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মুখ দিয়ে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাকে সুনির্দিষ্ট গতিমুখে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আগের বক্তব্যেই অনড় ছিলেন ট্রাম্প। আর তার ভিত্তিতে সিএনএন-এর দাবি, ‘ট্রাম্প আক্ষরিক অর্থেই ওবামাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেননি’।

বুধবার (১০ আগস্ট) ফ্লোরিডার সানরাইজের নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প বলেছিলেনন, ‘ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সম্মান করে। তিনি আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই আইএস-এর জন্ম দিয়েছেন আর হিলারি ক্লিনটন আইএসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।’ সিএনএন-এর নতুন প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে নিজের বক্তব্য আক্ষরিক ছিল নাকি রূপক ছিল তা ব্যাখ্যা করার মতো যথেষ্ট সুযোগ ও সময় দিয়েছিলেন রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইট। ট্রাম্পের অবস্থানকে একরকম প্রতীকীই মনে করেছিলেন হিউ। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আপনি হয়তো বুঝিয়েছেন ওবামা একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছেন, শান্তি বিনষ্ট করেছেন আর সেকারণেই আইএস সৃষ্টি হয়েছে, তাই নয় কি?’ কিন্তু জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, ওবামা যে আইএস প্রতিষ্ঠা করেছে আমি সেটাই বুঝিয়েছি। এক্ষেত্রে তিনি খুব মূল্যবান খেলুড়ে। আমি তাকে এর জন্য পুরস্কার দিতে চাই। আর হিলারি ক্লিনটনকেও পুরস্কার দিতে চাই।’

তখন হিউ তাকে বলেন, ‘ওবামা তো আইএস’কে ধ্বংস করতে চান, তাদের ঘৃণা করেন।’ কিন্তু এতেও অবস্থান না পাল্টে ট্রাম্প বলেন, ‘যা-ই হোক! ওবামাই আইএস প্রতিষ্ঠা করেছে! তিনি যেভাবে ইরাক থেকে বের হয়ে এসেছেন সেখান থেকেই আইএস সৃষ্টি হয়েছে। ওবামা যদি সবকিছু ঠিক ঠাক করতে পারতেন, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ ঠিক মতো সামাল দিতে পারতেন তবে আজ হয়তো আইএস-এর সৃষ্টি হতো না।’ সবশেষে হিউ বলেন, ‘সেটা সত্যি’। আর তখন ট্রাম্প বলেন, ‘সবশেষে তাই দাঁড়ায় যে ওবামা আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা’।

কিন্তু শুক্রবার সকালে এক টুইট বার্তায় অবস্থান পাল্টে ট্রাম্প একে ব্যাঙ্গ বলে উল্লেখ করেন। সিএনএনের উদ্দেশে টুইটে ট্রাম্প লেখেন, ‘টেলিভিশনে কাজ করা অভাগা ও আবেগী লোকজন আমাকে আমাকে নির্বাচন থেকে ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে তারা তা পারবে না।’

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ইরাক আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতেই আইএস গড়ে ওঠে। মূলত আল-কায়েদা থেকে বের হয়ে আসা একটি অংশই গড়ে তোলে আইএস। জর্দানীয় জঙ্গি নেতা আবু মুসাব আল-জারকাউইকে আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা বলে মনে করা হয়। ২০০৬ সালে মার্কিন বিমান হামলায় ওই জঙ্গি নেতা নিহত হয়। পরে আবু বকর আল বাগদাদির নেতৃত্বে আবারও সংগঠিত হয় আইএস। সূত্র: সিএনএন

/এফইউ/বিএ/

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম