ক’দিন আগেই আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ জুলাই রবিবার তিনি সেই লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, তার আপত্তির জায়গাটা হলো সংবাদমাধ্যমের কথিত স্বাধীনতা। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি।
রবিবার এক টুইটার বার্তায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে গণমাধ্যমকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে তা ব্যবহারের কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে টুইট করেছেন তিনি। টুইটে তিনি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আবারও হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।
সংবাদমাধ্যমগুলো হিলারির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে বলে বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৩ আগস্ট) রাতে কানেকটিকাটের ফেয়ারফিল্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তার নির্বাচনি লড়াই কেবল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারির বিপক্ষেই নয়, এ লড়াই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও। হিলারি ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে জালিয়ারির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন ‘আমি জালিয়াতকারী হিলারির বিরুদ্ধে নই, জালিয়াতকারী মিডিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনি লড়াই চালাচ্ছি।’
এর ধারাবাহিকতায় রবিবারও টুইটারে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় সংবাদমাধ্যমগুলো যে স্বাধীনতার চর্চা করছে তাকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প বলেন, ‘সংবাদপত্র কিংবা অপরাপর সংবাদপ্রতিষ্ঠানকে যা খুশি (মিথ্যা হলেও) তা লিখতে বা বলতে দেওয়াকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে না।'
জুন থেকেই ওয়াশিংটন পোস্টকে প্রেস ক্রেডেনশিয়াল দেওয়া বন্ধ করেছে ট্রাম্পের প্রচারণা দল। এছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় সংবাদ প্রতিষ্ঠানকেও কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসেরও প্রেস ক্রেডেনশিয়াল কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্প মানহানির আইন চালু করতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার দাবি, মানহানির আইন চালু হলে জনগণ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।
তবে রবিবার (১৪ আগস্ট) সকালটা পুরোটাই গণমাধ্যমের সমালোচনা করে কাটিয়েছেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান এ প্রার্থীর অভিযোগ, তার নির্বাচনি সমাবেশগুলো ঠিকমতো কাভার করে না গণমাধ্যম। এসব খবরে সত্যিকারের বার্তা দেওয়া হয় না এবং তার সমাবেশে মানুষের জমায়েত ও উদ্দীপনাগুলোকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প।
এদিকে সিএনএন'র সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার (১০ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘আক্ষরিক অর্থে (লিটারালি) আইএস-এর প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। বিপাকে পড়ে নিজের বক্তব্যকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ দাবি করে অবস্থান পাল্টান এ রিপাবলিকান প্রার্থী। নিজের পক্ষে যুক্তি হাজিরের চেষ্টা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ প্রকাশিত খবরকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ওবামার সম্পর্কে ওই কথাটি ব্যঙ্গ করে বলেছেন। সিএনএন ‘কর্তৃপক্ষ কি ব্যঙ্গ বোঝে না?’ ট্রাম্পের প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার সিএনএন-এর এক নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্প যে ব্যঙ্গ করে কথাটি বলেননি তা নিশ্চিত। কেননা, বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রক্ষণশীল ধারার রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইট এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মুখ দিয়ে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাকে সুনির্দিষ্ট গতিমুখে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আগের বক্তব্যেই অনড় ছিলেন ট্রাম্প। আর তার ভিত্তিতে সিএনএন-এর দাবি, ‘ট্রাম্প আক্ষরিক অর্থেই ওবামাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেননি’।
উল্লেখ্য, নির্বাচন নিয়ে এনবিসি-ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের সিদ্ধান্তের দিক দিয়ে দোদুল্যমান পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে কমপক্ষে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। এরমধ্যে রয়েছে ভার্জিনিয়া, কলোরাডো, ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়া। আর ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসির সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, জাতীয়ভাবে হিলারি ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৪২ শতাংশ ভোট। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/বিএ/








