যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলের ঘটনা। আইডাহো অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে এক পারিবারিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান চলছিলো। হঠাৎ ওই অনুষ্ঠানে হানা দেয় এক পাহাড়ি সিংহ। চার বছর বয়সী এক শিশুর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে সিংহটি। আর তা দেখে তরুণীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা চিৎকার করে ওঠেন। পাহাড়ি সিংহটিকে ঘিরে ফেলেন তারা। এক পর্যায়ে সিংহের কবল থেকে রক্ষা পায় শিশুটি। তবে শিশুটি রক্ষা পেলেও প্রাণে রক্ষা পায়নি পাহাড়ি সিংহটি। শিকারির সহায়তায় সন্দেহভাজন পাহাড়ি সিংহটিকে শনাক্ত করা হয় এবং স্থানীয় শেরিফের ডেপুটিরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
পাহাড়ি সিংহের থাবা থেকে সাহসিকতার সঙ্গে ওই শিশুকে উদ্ধার করায় সোমবার তার পরিবারের প্রশংসা করেন আইডাহোর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপকরা। তারা জানিয়েছেন, মানুষের ওপর পাহাড়ি সিংহের হামলা কিংবা হত্যা করার ঘটনা খুব বিরল। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ৭-৮ বছরে একবার এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়। আর এবার সেই বিরল ঘটনারই শিকার সাক্ষী হতে যাচ্ছিল আইডাহো।
আইডাহোর মৎস ও খেলাধূলাবিষয়ক বিভাগের প্রশিক্ষক গ্রেগ লোসিংস্কি বলেন, ‘আক্ষরিক অর্থে ওই শিশুটি পাহাড়ি সিংহের মুখের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। তবে তার মা ও উপস্থিত অন্যদের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণে মেয়েটি বেঁচে যায়। পরে ওই পাহাড়ি সিংহটি মেয়েটিকে ফেলে দিয়ে চলে যায়। পরে কর্তৃপক্ষকে খবর দেয় মেয়েটির পরিবার। মেয়েটির গায়ে সিংহের আঁচড় লেগেছে।’
শিশুটির নাম কিংবা তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে তারা আইডাহোর অধিবাসী বলে জানানো হয়েছে।
পাহাড়ি সিংহ পুমা, প্যান্থার, পাহাড়ি বিড়াল বা ক্যাটামাউন্ট প্রভৃতি নামেওপরিচিত। চেহারার ধরনে এটি অনেকটা বনবিড়ালের মতো। তবে আকারে আরও বড়। লোসিংস্কি জানান, আইডাহোতে অন্তত এক শতকের মধ্যে পাহাড়ি সিংহের আক্রমণে কেউ নিহত হয়নি।
মৎস ও খেলাধূলাবিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে সর্বশেষ এক পাহাড়ি সিংহের আক্রমণে এক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে সালমন রিভারে ১২ বছর বয়সী এক বালক আহত হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স
/এফইউ/








