কাশ্মিরে জাতিসংঘের দফতরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হতেই হুররিয়াত নেতা মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হুররিয়াতের গণমাধ্যম উপদেষ্টা শাহীদ-উল ইসলাম বলেন, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক বুধবার বাড়ি থেকে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের দফতরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় একটি পুলিশ গাড়ি এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
জাতিসংঘের দফতরের উদ্দেশ্যে মার্চ করার ঘোষণা দেয়াতে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে আজ সেখানে যাওয়ার সব সড়ক বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি কঠোর কারফিউ বলবত করা হয়।
মঙ্গলবার হুররিয়াত কনফারেন্স নেতা সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানি, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং মুহাম্মদ ইয়াসিন মালিক যৌথভাবে জাতিসংঘের দফতরের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ ওমর ফারুক মঙ্গলবার বলেন, ‘জাতিসংঘ রাজ্যের মানুষকে দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বাধ্য। আমরা শ্রীনগরে জাতিসংঘের দফতরে গিয়ে কাশ্মিরের মানুষের কাছে তারা কী প্রতিজ্ঞা করেছিল তা ওদের মনে করিয়ে দিতে চাই। তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন না করায় কাশ্মিরের মানুষ কীভাবে ভুক্তভোগী হচ্ছে তাও ওদের জানানো হবে।’
ওমর ফারুক বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে যদি আমাদের বাধা দেয়া হয় তাহলে যেখানে বাধা দেয়া হবে সেখানেই আমরা ধর্না-অবস্থানে বসে পড়ব। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টা ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানো হবে।’ ‘কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের নির্বাহী সভাপতি ওমর আব্দুল্লাহ সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা বন্ধ করতে বুধবার সমস্ত বিরোধী দলের বৈঠক ডেকেছেন। দলীয় সভাপতি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহর বাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ন্যাশনাল কফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক আলী মুহাম্মদ সাগর বলেন, রাজ্যের ক্ষমতাসীন পিডিপি-বিজেপি সরকার যেভাবে সহিংসতা থামিয়ে শান্তি বহাল করতে ব্যর্থ হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
এদিকে বুধবার কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে নতুন করে কারফিউ জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। মূলত কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোকে দমনের জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মিরের বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিদর্শনে একটি টিম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছিল ইউনাইটেড ন্যাশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি)। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাটির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরইমধ্যে অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার প্যানেল জম্মু-কাশ্মিরে কাজ শুরু করেছে। পার্লামেন্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে কাশ্মিরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। স্বাধীনতাকামী নেতা বুরহানের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। সেই থেকে আজও পর্যন্ত কাশ্মিরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
চলমান সংঘাতে গত ৪০ দিনে অন্তত ৬৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। অব্যাহত সহিসংতার প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল, দোকানপাট ও অফিস-আদালত। পুরো কাশ্মির উপত্যকা যেন স্থায়ীভাবে সেনা ছাউনিতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, পার্সটুডে, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
/এমপি/








