চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ান বিমান এয়ারলাইন এয়ার কোরিওর চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। গত মাসে বেইজিংগামী এক ফ্লাইটের শেনইয়াং নগরীতে জরুরি অবতরণের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ওই বিমানটি পিয়ংইয়ং থেকে বেইজিং যাচ্ছিলো। হঠাৎ কেবিনে ধোঁয়া দেখা গেলে চীনের শেনইয়াং নগরীতে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে বিমানটি। তবে এই সময় কন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিবিসি জানিয়েছে, চীনের সিভিল এভিয়েশন প্রশাসন এই বিমান কোম্পানির চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এ ঘটনার পর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত এই বিমান প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে জোর দিতে বলা হয়।
চীনের এই সাবধানতার সমালোচনা করে ফ্লাইটগ্লোবালের গ্রেগ ওয়াল্ড বলেন, ‘সম্প্রতি চীন যে সব এয়ারলাইন্সের ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করে বিব্রত করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ান ওই এয়ারলাইন্সের হয়তো রসদে ঘাটতি রয়েছে। তারা বেশ কিছু পুরানো হয়ে যাওয়া বিমান চালাতে বাধ্য হচ্ছে। পুরানো যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনা বেশ কঠিন কাজ।’
উল্লেখ্য, এয়ার কোরিও স্থাপিত হয় ১৯৫০ সালে। এই প্রতিষ্ঠান মূলত রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ান বিমান ব্যবহার করে থাকে। পিয়ংইয়ং থেকে বেইজিং অভিমুখী বিমানটি ছিলো রাশিয়ার তৈরি একটি টুপোলেভ টিইউ-২০৪ এয়ারবাস যা কিনা ১৪০ জন আরোহী ধারণ করতে সক্ষম।
চীনা কর্তৃপক্ষ উত্তর কোরিয়ান বিমান প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে পারে তা স্পষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে গ্রেগ বলেন, ‘জরিমানা ধরনের কোন ব্যবস্থা নিতে পারে চীন। বিষয়টি যেহেতু চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে, ফলে যে কোন কিছুই বলা কঠিন, কেননা, বিষয়টি রাজনৈতিকও।’
/ইউআর/বিএ/








