যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত বাংলাদেশি ইমাম ও সহকারীর পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের সিটি হলে ইসলাম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। এদিকে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যেন বিদ্বেষমূলক অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে বিচার করা হয়, সে দাবিটি পুনচ্চারিত করেছেন মুসলিম কমিউনিটির নেতারা। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন অন্য সম্প্রদায়ের নেতারাও।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের ওজোন পার্ক এলাকায় ১৩ আগস্ট (শনিবার) মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর ইমাম মাওলানা আখঞ্জি (৫৫) ও তার সহকারী তারা উদ্দিন (৬৪)-কে প্রকাশ্য দিবালোকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে রবিবার রাতে অস্কার মোরেলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ জানায়,ইমাম ও তার সহকারীকে হত্যার দায়ে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মোরেলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিউ ইয়র্কের সিটি হলে বিভিন্ন কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে নিহত ইমাম ও তার সহকারীর পরিবারের লোকজন মিলিত হন। সেসময় সিটি হলের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। মাওলানা আখঞ্জির ভাইয়ের স্ত্রী আফিয়া উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেবরকে হারিয়ে আমাদের পুরো পরিবার গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। আমরা আশা করি নিউ ইয়র্কের পুলিশ বিভাগ হত্যাকারীকে বিচারের মুখোমুখি করবে।’
আফিয়ার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন নিহত ইমামের ২৫ বছর বয়সী ছেলে সাইফ আখঞ্জি। গার্ডিয়ান জানায়, সংবাদ সম্মেলন চলার পুরোটা সময়জুড়েই তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।
মাওলানা আখঞ্জির জামাতা মোমিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই প্রত্যেকটা মানুষ জানুক, নিহত ইমাম কতটা ভালোবাসার মানুষ ছিলেন। প্রত্যেকটা মানুষ যেন বলতে পারে নিহত ইমামের সঙ্গে কারও কোনও সমস্যা ছিল না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বক্তা গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন মোরেলকে বিদ্বেষমূলক অপরাধে অভিযুক্ত করার জন্য তাদের দাবি পুনরুচ্চারিত করেছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন্সের নিউ ইয়র্ক অংশের প্রেসিডেন্ট আফাফ নাশের আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছে দাবি জানাচ্ছি যেন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে পূর্বপরিকল্পিত ও বিদ্বেষমূলক হামলার অভিযোগ হিসেবে উন্নীত করা হয়’।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্বেষমূলক অপরাধের মামলাটি মূলত পুলিশ হত্যার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অন্যদের ক্ষেত্রে এ মামলার ব্যবহার খুব বিরল।
খ্রিস্টান, ইহুদি ও শিখসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতারাও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এদিকে নিজের আইনজীবী পরিবর্তন করতে বৃহস্পতিবার আবারও আদালতে হাজির হন মোরেল। নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে বার বার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যাচ্ছেন তিনি।
হত্যার নেপথ্যের কারণ এখনও বের করা যায়নি বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। তাদের দাবি,এ হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও পুলিশের কাছে রহস্যই থেকে গেছে। বুধবার গোয়েন্দা প্রধান রবার্ট বয়েস সাংবাদিকদের বলেন,গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন অস্কার মোরেলের মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্লেষণ করে রহস্য উদঘাটনের কোনও নমুনা পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/এফইউ/







