তুরস্কের গাজিয়ানটেপ প্রদেশে বিয়েবাড়িতে আইএসের আত্মঘাতী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৩ জন। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২২ জনই শিশু। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সবার বয়স ১৪ বছরের নিচে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তিন মাসের এক শিশুও রয়েছে।
ভয়াবহ ওই বোমা হামলায় অনেকের মরদেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে পড়ায় সেগুলো শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার পর সেগুলো সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
রবিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান জানান, আইএসের ওই হামলাকারীর বয়স ১২ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
২০ আগস্ট ২০১৬ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের গাজিয়ানটেপের শাহিনবে এলাকার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলার সময় এ হামলা হয়। অনুষ্ঠান যখন প্রায় শেষের দিকে এবং লোকজন যখন নাচানাচি করছিলেন তখন হঠাৎ বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
হামলার জন্য আইএসকে দায়ী করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ধর্মবেত্তা ফেতুল্লাহ গুলেন (যাকে ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য দায়ী করা হয়) এর বাহিনী, নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এবং গাজিয়ানটেপের হামলার সন্দেহভাজন আইএস-এ তিনটি গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে আমাদের দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে আবারও একটিই বার্তা দিচ্ছি। আর তা হলো, আপনারা সফল হবেন না!
পরে ইস্তাম্বুলের সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, ‘বিয়ের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন বালক জড়িত। তার বয়স ১২ থেকে ১৪। হয় সে নিজে ওই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, নয়তো আশপাশের কেউ তার শরীরে থাকা বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।’ এ ঘটনায় আবারও আইএসের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ টেনে এরদোয়ান বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলায় আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা আছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে কুর্দি অধ্যুষিত গাজিয়ানটেপ শহরে আত্মঘাতী হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। গত জুনে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে চালানো হামলায় নিহত হন অন্তত ৪৪ জন। ওই হামলার দায় স্বীকার না করলেও এতে আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে মনে করে তুরস্ক। সূত্র: রয়টার্স, ইয়েনি সাফাক, আল জাজিরা।
/এমপি/








