যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি কাশ্মির প্রশ্নে ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ এনে অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে ভারত। এর প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টিসহ সবার মত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে যেন আন্তর্জাতিক ওই মানবাধিকার সংস্থার মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি।
গত ১৬ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার কাশ্মির বিষয়ক অনুষ্ঠানে ভারত ও ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ এনে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে বিতর্কিত শ্লোগান, বেআইনিভাবে লোক জড়ো করা ও দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টার কথা বলে পুলিশে অভিযোগ করে তারা। এর প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে। জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতাভুক্ত, শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মিরিদের দুর্ভোগ তুলে ধরার চেষ্টা করে তারা কোনও আইন বিরুদ্ধ কাজ করেনি। অ্যামনেস্টির কোনও সদস্য কোনও ‘বিতর্কিত’ স্লোগান দেয়নি। তাদের ওপর দায়ের করা দেশদ্রোহিতার মামলা মানবাধিকারের ওপর এক ভীষণ আঘাত।
তবে অ্যামনেস্টি অভিযোগ অস্বীকার করলেও এ ঘটনায় ব্যাঙ্গালুরুর আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়। বিপরীতে নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা বলে ভারতে কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে অ্যামনেস্টি। সেইসব হুমকি ও মামলায় ‘উদ্বিগ্ন’ হয়েই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপমুখপাত্র মার্ক টানার বলেন, ‘অ্যামনেস্টির ওপর এই আঘাতের ঘটনায় আমরা আহত বোধ করছি। আমরা দুনিয়াজুড়ে মানুষের মত প্রকাশ ও সম্মিলনের অধিকারের পক্ষে। এসব ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজের ভূমিকারও পক্ষে আমরা।’
মার্ক টানার জানান, ব্যাঙ্গালুরুতে অ্যামনেস্টির বিরুদ্ধে কথিত রাষ্ট্রদ্রোহের প্রাথমিক তদন্তের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিশ্চয় এ ঘটনায় আরও তদন্ত করবে। তবে এখনকার জন্য জরুরি হলো তদন্ত চলাকালে যেন অ্যামনেস্টিসহ সবার মত প্রকাশের অধিকার সংরক্ষিত হয়।
উল্লেখ্য, কাশ্মিরিদের দুর্ভোগ তুলে ধরতে অ্যামনেস্টির ওই অনুষ্ঠানে তিনটি আক্রান্ত কাশ্মিরি পরিবার নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে। ভারতীয় সেনাদের হাতে কীভাবে তাদের পদে পদে নাজেহাল হতে হচ্ছে, তা উঠে আসে আক্রান্তদের কথায়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/বিএ/








