ঢালাও ব্যক্তিগত নথি ফাঁসের অভিযোগে বিশ্বজুড়ে হতাশা-উদ্বেগ আর বিতর্কের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের আরও বেশকিছু তথ্য ফাঁস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উইকিলিক্সের প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ডেমোক্রেটিক পার্টি ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি প্রকাশ করে আলোড়ন তুলেছে উইকিলিকস। বুধবার রাতে আবারও অ্যাসাঞ্জ হুমকি দেন হিলারি ক্লিনটনের এমন কিছু গোপন মেইল তারা প্রকাশ করবেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে অ্যাসাঞ্জ যখন হিলারির ভূমিকা উন্মোচন করতে যাচ্ছেন তখন তিনি নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশ্নবিদ্ধ তার উইকিলিকস। বিশ্ববাসীর বস্তুগতভাবে অস্তিত্বহীন আদালতে তার হাজিরা নির্ধারিত হয়েছে! তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি (দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস)। তাদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, সৌদি সরকারের যে তথ্যগুলো ঢালাওভাবে উইকিলিকস ফাঁস করেছে, তাতে শত শত মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যও রয়েছে। ব্যক্তিগত এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে অসুস্থ শিশু, ধর্ষণের শিকার নারী ও মানসিক রোগীরা।
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে উড়িয়ে দিয়েছে উইকিলিকস। পাশাপাশি হুমকি দিয়েছে, হিলারির আরও বেশকিছু তথ্য ফাঁস করবেন তারা। লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে নির্বাসনে থাকা অ্যাসাঞ্জ বুধবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের মেজিন কেলিকে জানিয়েছেন, সামনে হিলারির আরও তথ্য ফাঁস করা হবে, যার ‘বিশেষ’ প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনে।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য আছে, হাজার হাজার পৃষ্ঠার তথ্য।’ তিনি আরও বলেন, তথ্যগুলো বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের, যা নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত। কিছু তথ্য ভিন্ন আঙ্গিকের, অনেক চমকপ্রদ, আর কিছু তথ্য তো নিখাদ বিনোদন।’
এর আগে চলতি বছরের জুনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে হিলারির ইমেইল ফাঁস করার বিষয়টি জানিয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ। তখন তিনি বলেন, ‘আমাদের আসন্ন ফাঁসের তথ্য হবে হিলারিকে নিয়ে।’
পরে জুলাইয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের প্রসঙ্গে বলেছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। সিএনএন-এর ‘অ্যান্ডারসন ৩৬০’ নামক একটি অনুষ্ঠানে অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, ‘হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে আরও অনেক আয়োজন আমাদের কাছে রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘আমরা জানতাম কনভেনশনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ আছে। কিন্তু আমাদেরও দায়িত্ববোধ রয়েছে। সে কারণেই কনভেনশনের আগে আমরা কিছু তথ্য ফাঁস করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা তা পরে ফাঁস করতাম, তাহলে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এতো আলোড়ন দেখা যেত না। আর তাই এটি অবশ্যই কনভেনশনের আগে প্রকাশ করতে হতো।’
ডেমোক্র্যাট দলের কর্মীদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এমন ১৯ হাজারেরও বেশি ই-মেইল ফাঁস করেছে আলোচিত গণমাধ্যম উইকিলিকস। ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোতে ন্যাশনাল কমিটি এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যকার বিভাজন পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। তাতে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাট নেতারা আগে থেকেই হিলারিকে মনোনীত করে রেখেছিলেন। আর এর ফলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ডেবি ওয়াজেরমেন শুলজ। ২৫ জুলাই কনভেনশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ‘দলীয় ঐক্য’ ধরে রাখার কথা বলে ডেবি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এদিকে হিলারির ইমেইল ফাঁসের ব্যাপারে বুধবারের হুশিয়ারিতে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা নির্ভর করে জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর এর প্রভাবের ওপর।’
সূত্র: পলিটিকো।
/এসএ/বিএ/








