জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে নিহতের সংখ্যা ছয় হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
ইয়েমেনে গত ১৮ মাস ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ। এর আগে গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ছয় হাজার বলে উল্লেখ করেছিল জাতিসংঘ। তবে এবার এই সংখ্যা চার হাজার বাড়িয়ে ১০ হাজার বলে উল্লেখ করা হলো। নিহতের সংখ্যায় এই বৃদ্ধি সম্পর্কে মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী সানায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয়ক জ্যামি ম্যাকগোল্ডরিক জানান, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ কিছু কিছু অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে নথিভুক্ত না করেই নিহতদের দাফন করে ফেলা হয়। ম্যাকগোল্ডরিক এ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেউ নিহত হলে বা মারা গেলে, নথিভুক্ত হওয়ার আগেই তাকে দাফন করে ফেলা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, প্রকৃত সংখ্যাটা অনেক বেশি, তবে তা ঠিক কতটা বেশি, তা আমরা বলতে পারছি না। আমাদের কাছে নিহতের যে সংখ্যাটা রয়েছে, তা অসম্পূর্ণ। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তথ্য নিয়ে ওই সংখ্যাটা নির্ধারণ করেছি।’
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে শরণার্থীদের সম্পর্কে ম্যাকগোল্ডরিক জানান, ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন। তাদের মধ্যে নয় লাখ ইয়েমেনির জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। দুই লাখ ইয়েমেনি বিদেশে শরণার্থী হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দুই কোটি ষাট লাখ জনসংখ্যার ইয়েমেনে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষেরই ত্রাণ সাহায্য দরকার, প্রায় ৭০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে রয়েছেন। ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, ‘এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষত যখন বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ চলছে।’
উল্লেখ্য, গত বছর ইয়েমেনের শিয়া হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির রাজধানী সানা সহ উত্তরাঞ্চলের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। তাদের দমনে ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হামলার মাধ্যমে সৌদি সরকার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল ও শিয়াপন্থী হুথিদের নির্মূল করতে চায়।
সূত্র: রয়টার্স।
/এসএ/








