সিরিয়ার আলেপ্পোতে নিহত আইএস নেতা আবু মোহাম্মদ আল-আদনানি গুলশান হামলাসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার আলেপ্পোতে আবু মুহাম্মদ আল-আদনানি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে মঙ্গলবার একটি শোক বার্তা প্রকাশ করে আইএস। আইএস’র কথিত বার্তা সংস্থা ‘আমাক নিউজ এজেন্সি’তে আদনানির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়। খবরে বলা হয়, 'সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সামরিক হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে এই শীর্ষ নেতার মৃত্যু হয়। এর আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক জানান, আলেপ্পো প্রদেশের আল-বাব এলাকায় মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় আদনানি নিহত হয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
সিরিয়ার আলেপ্পোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানে নিহত আইএস নেতা আবু মোহাম্মদ আল-আদনানি জঙ্গি সংগঠনটির মুখপাত্র ছিলেন। তবে পিটার কুক দাবি করেছেন, আদনানির ভূমিকা কেবল জঙ্গি সংগঠনটির মুখপাত্র হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
তার দাবি, গত বছর এবং এ বছরের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হামলার ক্ষেত্রে আদনানির ভূমিকা ছিল। কুকের মতে, আইএস-এর বিদেশি অভিযানগুলোর ‘মূল স্থপতি’ ছিলেন আদনানি। আর তারই অংশ হিসেবে প্যারিস হামলা, ব্রাসেলস হামলা, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে হামলা এমনকি গুলশান হামলার ক্ষেত্রেও তার বড় ধরনের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন কুক। সিনাই উপত্যকায় রুশ বিমান ভূপাতিত করা এবং আঙ্কারার র্যালিতে আত্মঘাতী হামলার পেছনেও আদনানির ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন পিটার কুক। এসব হামলায় ১৮০০-রও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ।
তার মতে, আদনানির মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেলে তা আইএস-এর বিরুদ্ধে অভিযানে বড় সাফল্য বলে বিবেচিত হবে।
কুকের দাবি, আইএস জঙ্গিদেরকে সমন্বিত করার কাজ করতেন আদনানি। আইএসের জন্য সদস্য সংগ্রহ করা ছাড়াও সামরিক ও বেসামরিকদের ওপর লোন উলফ হামলা চালানোর আহ্বান জানাতেন তিনি।
উল্লেখ্য, অবিশ্বাসীদের ওপর হামলা চালাতে নিয়মিত আহ্বান জানিয়ে আসছে আইএস। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিয়ার ইদলিবের বাসিন্দা আদনানিও এমন একটি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফরাসি ও মার্কিন নাগরিকদের ওপর পাথর, ছুরি এমনকি গাড়ি নিয়ে হামলা চালানোর জন্য সমর্থকদের পরামর্শ দেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আল-আদনানিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার সম্পর্কে তথ্যের বিনিময়ে পঞ্চাশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলো। আল-আদনানির সর্বশেষ বার্তা শোনা গেছে মে মাসে। সূত্র: এএফপি, ইয়াহু নিউজ
/এফইউ/








