এক ইরাকি শিয়া যোদ্ধা জানিয়েছেন, সিরিয়ার আলেপ্পোতে লড়াইয়ে শিয়া সশস্ত্র সংগঠন হারাকাত আল-নুজাব-এর এক হাজারেরও বেশি যোদ্ধা অংশগ্রহণ করেছেন। বুধবার সংগঠনটির মুখপাত্র হাশিম আল-মুসাউই এ কথা জানান।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হারাকাত আল-নুজাব এক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে যোদ্ধাদের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাশেম সোলাইমানির সঙ্গে যোদ্ধাদের দেখা যায়।
সিরিয়ায় ইরাকি ও লেবাননি শিয়া গেরিলারা প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত বাহিনীকে সহায়তার জন্য আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান আসাদ, ইরাক ও লেবাননের শিয়া গেরিলাদের মিত্র হিসেবে সিরিয়ার যুদ্ধে আগে থেকেই সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। রুশ যুদ্ধ বিমানের সহায়তায় আসাদের বাহিনী এবং শিয়া যোদ্ধারা আলেপ্পোতে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে কার্যরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স-এর কর্মী ইব্রাহীম আলহাজ দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে চারটি ক্লোরিনের সিলিন্ডার ভর্তি ব্যারেল বোমা ফেলা হয়। ওই সংগঠনটির ফেসবুক পাতায় শ্বাসকষ্ট হওয়া কয়েকজনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে আলেপ্পোর কিছু এলাকায় ক্লোরিন হামলার অভিযোগ করেছিল সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় আলেপ্পোর সুক্কারি নামক স্থানে ক্লোরিন হামলার পর লোকজনের মাঝে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অন্তত ৮০ জন এতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এই তথ্য যাচাই করা যায়নি।
গত মাসে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া আলেপ্পোর কিছু অংশ সরকারি বাহিনী রবিবার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে বলে জানা গেছে। তবে অবরুদ্ধ সিরীয়দের সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, অন্তত ছয় লাখ সিরীয় এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। যার মধ্যে আলেপ্পোতেই তিন লাখ সিরীয় আটকে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের মার্চে দেশজুড়ে আসাদবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সরকার বিক্ষোভকারীদের দমন শুরু করলে তা সশস্ত্র গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। জাতিসংঘের হিসেবমতে, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে দুই লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি সিরীয় নিহত হয়েছেন। দেশ ছাড়তে হয়েছে ৪৮ লাখ মানুষকে। আর অভ্যন্তরীণভাবে ঘরহারা হয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ মানুষ।
সূত্র: রয়টার্স।
/এসএ/








