ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বার্তা সংস্থা এপির একজন ফটোগ্রাফারের তোলা ঐতিহাসিক এক ছবিকে ‘অশ্লীল’ বলছে ফেসবুক। যুদ্ধস্মৃতি স্মরণে লিখিত এক প্রবন্ধের সঙ্গে এই ছবিটি জুড়ে দিয়েছিলেন নরওয়ের একজন লেখক। ফেসবুক ওই লেখককে ছবিটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করতে চেয়েছে। এই অভিযোগ স্বীকার করে ছবিটি সেন্সর করার পক্ষেই নিজেদের যুক্তি হাজির করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
১৯৭২ সাল। ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের সেই ভয়াবহ সময়ে নাপাম হামলার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফটোগ্রাফার নিক উট। সে সময় ভিয়েতনামের নাপাম হামলায় ভীত সন্ত্রস্ত শিশুদের এই ছবিটি তোলেন। ছবির মাঝখানের নয় বছরের শিশু কিম ফুক আগুন লেগে যাওয়ায় তার গায়ের সব পোশাক খুলে ফেলে প্রাণভয়ে দৌড়ে পালিয়ে আসছিলো।
সে সময় এই ছবিটি যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হয় ছবিটি। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী আবেগ সঞ্চারেও এটি বিরাট ভূমিকা রাখে। তবে ফেসবুকের কাছে পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ছবিটি ‘অশ্লীল’ বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান লেখক টম এজিল্যান্ড ফেসবুকে নিক উটের সেই সুবিখ্যাত ঐতিহাসিক ছবিটি পোস্ট করেন। তবে ফেসবুক এজিল্যান্ডের পোস্ট করা ওই ছবিটি সরিয়ে ফেলে। এজিল্যান্ড জানান, যে সাতটি ঐতিহাসিক ছবি যুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দিতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রেখেছিলো, এই ছবিটি তার মধ্যে অন্যতম। তিনি তার একটি প্রবন্ধে আলোচনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হিসেবেই ছবিটি পোস্ট করেন।
গার্ডিয়ানের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, ফেসবুক থেকে তাকে বলা হয় ছবিটি একেবারে সরিয়ে ফেলতে অথবা ছোট করে ফেলতে। এর ব্যখ্যা হিসেবে ফেসবুক জানায়, ‘পুরোপুরি নগ্ন যৌনাঙ্গ বা নিতম্ব এবং পুরোপুরি নগ্ন নারীবক্ষ দেখা যাচ্ছে এমন ছবি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।’
নরওয়ের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্র আফটেনপোস্টেনের প্রধান সম্পাদক এজিল হানসেন এ ঘটনায় নিজের পত্রিকায় এক খোলা চিঠি লিখে জাকারবার্গ এবং ফেসবুকের তীব্র সমালোচনা করেন। হানসেন তার চিঠিতে বলেন, ‘ফেসবুক শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নগ্রাফি ও ঐতিহাসিক যুদ্ধের ছবির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে অপারগ।’
তবে ফেসবুকের এক মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানায়, ‘আমরা বুঝতেই পারছি এই ছবিটি যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, কিন্তু একে যে কোন নগ্ন শিশুর ছবি থেকে আলাদা করা কঠিন।’ ফেসবুকের মুখপাত্র জানান, ‘আমরা জনগণের আত্মপ্রকাশ এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রক্ষা করতে চাই। আমাদের সমাধান যে যথার্থ ও নিখুঁত তা হয়তো নয়, কিন্তু আমরা এভাবেই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করি’।
ফেসবুক নিয়ে ২০১৬ সালেরই আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুক থেকে সচেতনভাবে জাকারবার্গের ব্যক্তিগত বিষয়ে বিতর্কিত কিছু প্রবন্ধ চেপে রাখা হয়েছে।
/ইউআর/বিএ/








