যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার হামলার প্রায় ১৫ বছর পর নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশটির তৎকালীন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান ক্রিস্টিন টড হুইটম্যান। ৯/১১ হামলার পর ওই স্থানকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। অথচ সেখানকার বাতাস ছিলো দূষিত। হামলার পর অনেকে দূষিত বাতাসে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগেছেন এবং মারা গেছেন।
৯/১১-এর ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুইটম্যান তার কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হামলার পর যে বায়ু দূষণ হয়েছিল, তার ভয়াবহতা সম্পর্কে হুইটম্যান অবগত ছিলেন না। তবে তিনি কোনও মিথ্যা কথা বলেননি বলেও দাবি করেন।
হুইটম্যান বলেন, ‘তখন আমদের ধারণা ভুল ছিল। আমাদের তা স্বীকার করেই জনগণকে সাহায্য করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের অসুস্থতা দেখে আমি অত্যন্ত দুঃখিত। মানুষ মারা যাচ্ছে, আর এতে আমার এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার যদি দায় থাকে, সেজন্য আমি দুঃখিত। তখন আমাদের জ্ঞানে যেটুকু কুলায়, আমরা তা করার চেষ্টা করেছিলাম।’
হুইটম্যান আরও বলেন, ‘প্রতিবছর এই দিনটিতে আমি কুণ্ঠিত থাকি, কারণ লোকজন আমাকে দোষারোপ করেন। তারা বলেন, আমি তাদের মিথ্যা বলেছি, আর আমার মিথ্যা বলার জন্যই মানুষ মারা যাচ্ছে। আমি একটা ভুল করেছি।’
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এক যোগে চালানো হয়েছিল চার-চারটি আত্মঘাতী বিমান হামলা। দুটি বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ারে আঘাত হানে। নিমেষে ধসে পড়ে ভবন দুটি। আরেকটি বিমান নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তবে চতুর্থ বিমানটি নিয়ে জঙ্গিরা পূর্ব নির্ধারিত স্থানে হামলা চালাতে চাইলেও যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পেনসিলভেনিয়ার আকাশে বিধ্বস্ত হয় সেই বিমান। হামলায় নিহত হন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। ঘটনাস্থল থেকে ৭০ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধারের তথ্য লিপিবদ্ধ করে মার্কিন স্বাস্থ্যবিভাগ।
হামলার ১৫ তম বর্ষপূর্তিতে এসে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ রেজিস্ট্রি থেকে দেখা গেছে, ৯/১১ এর বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক প্রভাব কাজ করছে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৯/১১ এর উদ্ধারকর্মীদের নিবন্ধিত ৭১ হাজার নাম রয়েছে, যাদের জীবিত উদ্ধার করা গিয়েছে। জানা গেছে, এই উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে শতকরা ১১ ভাগই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
নিউ ইয়র্কের সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ। উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে প্রোস্টেট ও থাইরয়েড ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে স্তন ক্যান্সার ও নন-হগকিন লিমফোমার হার বেশি। এ ছাড়া তারা দ্রুত কর্মজীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন, অনেকক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতও হচ্ছেন। অনেকে স্মৃতিজনিত মানসিক যন্ত্রণা কিংবা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারেও ভুগছেন।
অন্য এক জরিপে দেখা যায়, ঘটনার ১০ বছর পর উদ্ধারকারী ও উদ্ধারকৃত মিলিয়ে সবার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার বা পিটিএসডিতে ভুগছেন এবং এদের ৫০ শতাংশই মদ্যপ হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করার সময় উপস্থিতদের মধ্যে ৫ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যেই অ্যাজমার ঝুঁকি দেখা গেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/








