সংশয়ের মধ্য দিয়েই কাটছে অস্ত্রবিরতির সময়টা, এবার তার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ও রুশ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও আলেপ্পোতে পৌঁছায়নি ত্রাণ সহায়তা। তুর্কি সীমান্তে এখনও অপেক্ষায় আছে সারি সারি ত্রাণের মাল বোঝাই ট্রাক। জাতিসংঘ যুদ্ধরত গ্রুপগুলোকে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে।
রুশ-মার্কিনের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতির মেয়াদ আরও ৪৮ ঘন্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মার্ক টোনার জানান, ‘সহিংসতার কথা শোনা গেলেও অস্ত্রচুক্তির ফলে ওই সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। আলোচনার মধ্যদিয়ে আরও ৪৮ ঘন্টা অস্ত্রবিরতি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
টোনার বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে ফোনে আলোচনার পর তারা অস্ত্রবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
মার্কিন ও রুশ বাহিনী শুক্রবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং জাবাথ ফাতেহ আল-শাম-এর ওপর হামলা চালানোর জন্য অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর করতে চাইছে।
তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ার অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এবারের অস্ত্রবিরিরতি চুক্তি কার্যকরের পর কিছু জায়গায় সংঘর্ষ হলেও প্রথম ৪৮ ঘন্টায় নিহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
টোনার বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় মানবিক সাহায্য পাঠানো সম্ভব হয়নি। আমরা রুশ কর্তৃপক্ষকে আসাদের ওপর চাপ দিতে বলেছি, যেন অবরুদ্ধ স্থানে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়।’
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তুর্কি সীমান্তে ত্রাণ-বোঝাই ট্রাকের সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও তা আলেপ্পোতে প্রবেশ করতে পারেনি। ত্রাণ সহায়তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের অবস্থানের জানান দিতে চাইছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ান অবজারভেটরি।
আলেপ্পোর ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে তুর্কি সীমান্তবর্তী শহর সিলভেগোজু পার হয়ে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অন্তত ২০টি ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। অন্তত তিন লাখ মানুষ অবরুদ্ধ রয়েছে আলেপ্পোতে।
শনিবার গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় কয়েক বছর ধরে চলে আসা সহিংসতা বন্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের ঘনিষ্ট মিত্র রাশিয়া এবং বিদ্রোহীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর জেনেভায় মার্কিন পররাশট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অস্ত্রবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সোমবার সূর্যাস্তের পর থেকে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহীরা পরস্পরের ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। এ ছাড়া আইএস ও জাবাথ ফাতেহ আল-শাম (সাবেক আল-নুসরা ফ্রন্ট) প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যৌথভাবে হামলা চালাবে। সেই সঙ্গে আসাদ বাহিনী ও বিদ্রোহীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রায় চার লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরহারা হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতমুখী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহযোগিতা করছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলার নামে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তারা আসাদ সরকারের সমর্থনে আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে মার্কিন-রুশ ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলেও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স।
/এসএ/








