ইউরোপে নতুন পৌঁছানো সিরিয়ান শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তার ভিত্তিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ বলে দাবি করেছেন জাতিসংঘের গোয়েন্দারা।
তাদের তদন্ত প্যানেল জানায়, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য একটি তালিকা রয়েছে যে তালিকায় যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ইত্যাদি রয়েছে। এই নথিপত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের সম্ভব।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান পাউলো পিনহিরো বলেন, ‘ইউরোপের যে রাষ্ট্রগুলি নবাগত সিরিয়ান শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে তাদের প্রতি এ বিষয়ে প্রবেশগম্যতা ও কাজে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তবে কোন কোন দেশ তদন্তকারীদের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে তা বলেননি তিনি। এই শরণার্থীদের বেশিরভাগই গিয়েছেন জার্মানি ও সুইডেনে, বাকিরা আশ্রয় নিয়েছেন গ্রিস ও ইতালিতে।
তিনি বলেন, ‘সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত কমিশন যদি দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির ওপর জোরদার নথিসমৃদ্ধ প্রতিবেদন করতে থাকে কিন্তু দেশটির ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে আমলে না আনে।’
তদন্ত কমিশনের এক প্যানেল সদস্য জানান, তাদের কাছে এমন সব তথ্য প্রমাণ রয়েছে যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অগাস্ট মাসে সিরিয়ার আলেপ্পোতে মাকসুদ এলাকায় এক হামলায় ক্লোরিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিলো।
এ ছাড়াও সিরিয়ার হামা, হোমস ও দামেস্কের কিছু কিছু অঞ্চলে ফসফরাস ও নাপাম ব্যবহার করার কথা জানা গিয়েছে।
প্যানেল আরও জানায়, বিদেশি সেনা হিসেবে যুদ্ধ করেছে এমন ৫ হাজার সেনার সাক্ষাৎকারের এক তথ্যভাণ্ডার রয়েছে তাদের কাছে।সেসবের অনেকগুলোই ইউরোপের দেশগুলোকে সরবরাহ করা হবে।
পিনহিরো আরও জানান, আমাদের তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্যাদি দিয়ে সফলভাবে তদন্তকাজ চালাতে পেরেছেন এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে।’
জাতিসংঘের সাবেক যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আইনজীবী ও প্যানেল সদস্য কার্লা ডেল পন্টি বলেন, ‘আমাদের যত দ্রুত সম্ভব একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।সময় চলে যাচ্ছে, ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, ন্যয়বিচার ছাড়া শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
সোমবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনী দেইর আল-জরের কাছে অবস্থান নিয়েছে যা ‘ঘোর আগ্রাসন’কেই নির্দেশ করে।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছর ধরে চলমান সিরিয়া যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে রাশিয়া, বিপরীতে বিদ্রোহীদের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: রয়টার্স
/ইউআর/








