আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রবিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গেছেন নেতানইয়াহু।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বিশেষত সামরিক খাতে এই দুইটি দেশের মধ্যে চির-বন্ধুত্বের বন্ধন রয়েছে। কিছুদিন আগে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কে খানিক নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা চিরবন্ধুত্বে চিড় ধরাতে পারেনি। সে কারণেই সম্প্রতি বড় ধরনের সামরিক সহায়তা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর ফাঁস করেছে। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েলের সরকারি দফতর এবং হিলারি-ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের সূত্র তাদের বৈঠকের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে রবিবার ওই দুইটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেনি তারা। বৈঠক কোথায়-কখন অনুষ্ঠিত হবে, তাও নিশ্চিত করেতে পারেনি ওই ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি লবি প্রচণ্ড শক্তিশালী। দেশটির সামরিকতা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে এই লবির প্রভাব প্রশ্নাতীত। মার্কিন নির্বাচনেও ইহুদি লবির একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাই আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রার্থীর সঙ্গে নেতানইয়াহুর বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইাতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ইসরায়েলের সঙ্গে। ইসরায়েলকে ‘বিপজ্জনক প্রতিবেশীদের থেকে রক্ষার জন্য’ রেকর্ড পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র। দশ বছর মেয়াদী ওই সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ৩৮০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ঘটনার পর আলজাজিরার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা এই চুক্তির জন্য ওবামাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর তাকেই দিতে হবে, কেন তিনি ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা না কমিয়ে আরও বাড়ালেন? নির্বাচনকে সামনে রেখেই কি তিনি এমনটা করেছেন? আর বিপজ্জনক প্রতিবেশি কারা, তারা কিভাবে বিপজ্জনক?’
/বিএ/








