সিরিয়ায় নৃশংসতা বন্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে এবং 'লজ্জাজনক ঔদাসীন্য' দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করলেন লিচেনস্টেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরেলিয়া ফ্রিক। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করে সিরিয়া ইস্যুতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন অরেলিয়া।
বিশ্ব এখন যে শরণার্থী ও অভিবাসী সংকট মোকাবেলা করছে তার মূল কারণ নৃশংসতা বলে উল্লেখ করেন তিনি। অরেলিয়া বলেন, ‘এ ধরনের অপরাধে জড়িত হওয়ার ইতিহাস থেকে সরে এসে নিরাপত্তা পরিষদ নতুন একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।’
এক্ষেত্রে এসিটি গ্রুপের প্রসঙ্গটির উল্লেখ করেন তিনি। এসিটি গ্রুপ হলো দ্য অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি, কোহেরেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি গ্রুপ। ২৯ ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্ত-আঞ্চলিক সংগঠন এটি। এ দেশগুলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কার্যক্রম উন্নত করার জন্য কাজ করে থাকে। নিরাপত্তা পরিষদের দায়বদ্ধতা, সংরগ্নতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে থাকে সংগঠনটি।
অরেলিয়া বলেন, ‘নৃশংস অপরাধের ব্যাপারে এসিটি গ্রুপের তৈরি করা আচরণবিধি ১১২টি দেশ সাবস্ক্রাইব করছে। নিরাপত্তা পরিষদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়ে সিরিয়ার মতো ব্যর্থতাগুলোকে অতীতের কাতারে ফেলতে পারবে এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাস্তবসম্মতভাবে কমাতে পারবে। বিশ্ব আজ এ সংস্থার দিকে তাকিয়ে আছে যেন তারা এ ধরনের প্রবৃত্তি গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু প্রায়ই হতাশ হতে হয়। সংঘাত প্রতিরোধের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের কাজ করা উচিত।
প্রত্যেক মানুষের সংহতির আদর্শ এবং সার্বজনীন অধিকারের ওপর জাতীয় স্বার্থকে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া যাবে না বলে জোর দিয়েছেন অরেলিয়া। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের দ্বিধা অনিবার্যভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটাবে এবং ধ্বংস ডেকে আনবে।’
/এফইউ/








