যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রার্থীর প্রথম বিতর্ক। স্বভাবতই সব দর্শকের মনোযোগ সেদিকেই থাকার কথা। তবে তা হয়নি। দর্শকদের মনোযোগ পেয়েছিলেন ওই বিতর্কের সঞ্চালকও।
অনেক দর্শক মনে করছেন, ওই বিতর্ক সঞ্চালনার ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি সঞ্চালক লেস্টার হল্ট। দুই প্রার্থীর পারস্পরিক উত্তেজনার সময়ও তিনি ছিলেন নীরব। ওই বিতর্ক দেখেছেন, এমন একজন দর্শক তার টুইটারে তাই ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, বিতর্ক চলাকোলে সঞ্চাক সম্ভবত টয়লেটে আটকা পড়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের প্রথম সামনাসামনি বিতর্কে দর্শকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন সঞ্চালক ও এনবিসি উপস্থাপক লেস্টার হল্ট।
বিতর্ক চলার সময় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলছিলেন তখন নীরব ভূমিকা পালন করায় লেস্টার হল্টের বিরুদ্ধে সমালোচনা চলছে। লেস্টার দুই প্রার্থীর বক্তব্যের সত্যতা পুরোপুরিভাবে পরীক্ষা করতে পারেননি উল্লেখ করেও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টিভি চ্যানেল এনবিসি আয়োজিত এক বিতর্কে প্রথমবারের মতো সামনাসামনি হন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত প্রথম ওই বিতর্কে উঠে আসে বর্ণবাদ, যুদ্ধ, পররাষ্ট্রনীতি ও কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। একে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের ইতিহাসে ‘সর্বকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক’ বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। এনবিসি টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন লেস্টার হল্ট।
৯০ মিনিটের ওই বিতর্কের শুরুতেই সঞ্চালক বলেন, ‘এ ভূমিকা পালন করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। কিন্তু আজকের এ সন্ধ্যাটা প্রার্থীদের জন্য।’ এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই হয়তো বিতর্কে নিশ্চুপ থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লেস্টার। তবে লেস্টারের ভূমিকাকে ভালোভাবে নিতে পারেননি প্রার্থীদের সমর্থকরা। লেস্টারের ওই নীরবতাকে বিতর্ক থেকে তার উধাও হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখছেন তারা।
বিতর্কে দুই প্রার্থীই একে অপরকে আক্রমণ করে কথা বলেন। কিন্তু সেসময় প্রার্থীরা যে দাবিগুলো করছেন তার সত্যতা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা না করায় লেস্টারের সমালোচনা করা হয়েছে। যেমন ট্রাম্প বলেছেন, হিলারি ক্লিনটন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে গোটা সময়টাই আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন। আইএসবিরোধী লড়াইয়ে হিলারির ব্যর্থতা বোঝাতে গিয়েই এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। কিন্তু তার এ বক্তব্যের সময় সঞ্চালক হস্তক্ষেপ করেননি কিংবা এ বক্তব্যের যৌক্তিকতা জানতে চাননি বলে অভিযোগ করেছে হিলারির সমর্থকরা। কিভাবে হিলারি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকেই আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন কিংবা তখন আইএসের আদৌ অস্তিত্ব ছিল কিনা এ প্রশ্নগুলো সঞ্চালকের কাছ থেকে আসেনি। কখনও কখনও হিলারিকে থামিয়ে দিয়ে ট্রাম্প কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেছে হিলারির সমর্থকরা। লেস্টারের এ নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিদ্রুপ করেছেন তারা।
এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সম্ভবত লেস্টার হল্ট বাথরুমে গিয়েছিলেন, সম্ভবত সেখানে একটি ইউরিনাল ছিল এবং তাকে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছিল।’
আরেক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘লেস্টার হল্টকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি একজন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক। এ বিতর্কে তিনি তার শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন যে তারা যেন তাদের ভেতরকার কথাগুলো উচ্চারণ করে।’
হিলারিকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ না করায় লেস্টার হল্টের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্পের সমথর্করাও। টুইটারে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘লেস্টার হল্ট কী যে তামাশা করলো। সার্ভার, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন, পে ফর প্লে, রাশিয়া/ইউরেনিয়াম কিছুই আলোচনায় আসেনি।'
দুই পক্ষকেই বিরক্ত করে তোলাটা কখনও সঞ্চালকের জন্য জয়ের বিষয়, আবার কখনও তা সবদিকের পরাজয় বলেই মনে করা হয়। লেস্টার হল্ট হয়তো তেমনই একটি পরিস্থিতে পড়েছেন। তবে লেস্টার হল্ট যে এমন এক পরিস্থিতিতে পড়বেন তা বিতর্কের আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মর্নিং জো-এর সঞ্চালক জো স্কারবোরো। তিনি বলেছিলেন, ‘লেস্টার যা কিছুই করুন না কেন, তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যা কিছুই হোক না কেন কেউ খুশি হবে না। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হাফিংটন পোস্ট
/এফইউ/








