বিদ্রোহীদের দখলে থাকা সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীর বৃহত্তম এক হাসপাতালে শনিবার কমপক্ষে দু’টি ব্যারেল বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দ্বিতীয়াবারের মতো হামলার কবলে পড়লো ওই সিরীয় হাসপাতাল উল্লেখ্য, আলেপ্পোর পুনর্দখল নিতে রুশ বাহিনী আসাদ সরকারের সমর্থনে সেখানে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
সিরিয়ান আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটির আদম সালুল বলেন, ‘এম১০ হাসপাতালে দু’টি ব্যারেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খবরে বলা হয়, এ দু’টির একটি ক্লাস্টার বোমার মতো ছিল।’ হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। এই ঘটনাকে তিনি ‘যুদ্ধাপরাধ’ সাব্যস্ত করেছেন।
এ ঘটনার কিছু আগে আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর হামলা আরও জোরদার করতে সিরিয়ায় আরও যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়া। স্থানীয় রুশ সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর জানায়। আর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সহিংসতা থামানোর ক্ষেত্রে সিরীয় কূটনীতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়ায় সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আলেপ্পোতে অভিযান জোরদার করে সরকারি বাহিনী। সিরীয় সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থক মিলিশিয়ারা আলেপ্পোর উত্তরে বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। সিরীয় বাহিনীর এ অভিযানে ব্যাপক বিমানহামলা চালিয়ে সহযোগিতা করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। শুক্রবার এক রুশ সংবাদমাধ্যম সিরিয়ায় আরও রুশ যুদ্ধবিমান পাঠানোর পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৮ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত তারা ৩ লাখ ১ হাজার ৭৮১ জনের প্রাণহানি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হবে বলে দাবি করেছেন তারা। সিরিয়ান অবজারভেটরি বলছে, ওই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি হবে। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতমুখী।
রয়টার্সের শনিবারের খবরে বলা হয়েছে, আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চল বিদ্রোহীদের কবল থেকে মুক্ত করতে রাশিয়ার সমর্থনে নতুন করে সিরিয়া সরকার অভিযান শুরু করেছে। তা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
চলমান সিরীয় পরিস্থিতির এই ভয়াবহতায় কয়েক দফার ব্যর্থতার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় কয়েক বছর ধরে চলে আসা সহিংসতা বন্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের ঘনিষ্ট মিত্র রাশিয়া এবং বিদ্রোহীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর জেনেভায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অস্ত্রবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। তবে সেই চুক্তি ভেঙে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে টানা তিনদিনের মতো টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলেপ্পোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আরও অনেক পথ বিবেচনা করতে প্রস্তুত এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেছেন, এটা (কূটনীতি) লাইফ সাপোর্টে আছে। তবে এখনও তা শেষ হয়ে যায় নি।
/বিএ/








