সর্বস্ব হারিয়ে অবলম্বন খুঁজছে হাইতিবাসী, নিহত ৮৭৭

বিদেশ ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০১৬, ১৪:৩৬আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৬, ১৫:২২
image

ভেঙে গেছে ব্রিজসহ বেশিরভাগ অবককাঠামো। ধ্বংস হয়ে গেছে ফসলী মাঠ। ফলের গাছগুলোও আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি ভয়াবহ ঝড়ের ঝাপটায়। যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ-আগ্রাসন আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার বিশ্বের এই গরীবতম দেশটি হাইতিতে বুধবারের ঝড় এরইমধ্যে প্রায় ৯শ প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিপর্যস্ত হাইতি

রয়টার্সের হিসেব মতে ঝড়ে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা ৮৭৭। প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাণ হারানো মানুষদের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। সে হিসেবে মৃতের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। হাইতির দুযোর্গবিধ্বস্ত এলাকার কর্তাব্যক্তিরা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাদের এ আশঙ্কার কথা বর্ণনা করেছেন। এতো এতো মৃত্যু, আর ফসল-ঘড়বাড়ি-স্বপ্ন-আশা সর্বস্ব হারিয়ে হাইতিবাসী এখন ভাবছে সম্ভাব্য আগামির ভয়াবহতা নিয়ে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, রাস্তাঘাট, সেতু ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় আর্তদের কাছে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।

ডমিনিকো ওসনির একজন বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, দুই দিন ধরে পায়ে হেঁটে প্রতিবেশীদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বলেন, ‘এখানকার দুর্গতদের সবারই ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, মাথার ওপর থেকে হারিয়ে গেছে ছাদ। আমার সব হারিয়ে গেছে, এমনকী জন্মসনদটা পর্যন্ত।’
ধারণা করা হচ্ছে  হারিকেন পরবর্তী সময়ে দুর্যোগপ্রবণ দেশটিতে খাদ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় বড় আকার ধারণ করতে পারে। দেখা দিতে পারে ভয়াবহ মানবিক সংকট। ম্যাথিউ’র আঘাতে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হাইতির আরেক শহর শান্তালের ডেপুটি মেয়র মার্ক সোনিয়েল নোয়েল ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এমন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, যার ওপর ভর করে আমরা টিকে থাকতে পারি। সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে সব ফলের গাছ। সামনের দিনগুলো কীভাবে মোকাবেলা করব, কোনও ধারণা নেই আমাদের। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবতাবাদী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের আঞ্চলিক পরিচালক জন হাসে-ও সিএনএন-এর কাছে মত প্রকাশ করতে গিয়ে খাদ্য সমস্যার কথাই তুলে এনেছেন। তারা জানান, হাইতিতে মানবিক সমস্যাকে প্রকটতর করে তুলবে তীব্র খাদ্যসংকট। সোনিয়েল নোয়েল ভীষণ হতাশায় বলেন, ‘যেন অকুল পাথারে পড়েছি। সব ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে। ভেঙে পড়ে গেছে সমস্ত ফলের গাছ। কিভাবে কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’ জন হাসে জানান, হাইতির যে দক্ষিণাঞ্চল প্রধান খাদ্য উৎপাদক অঞ্চল হিসেবে দেশজুড়ে স্বীকৃত, সেটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র খাদ্যসংকটের সূত্র ধরে দেশটিতে দ্রব্যের বিনিময়মূল্যের তীব্র অস্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে সহিংসতা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। একটা দেশের গোটা ব্যবস্থাপনাকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।  

 

ম্যাথিউ-র আঘাতে বিধ্বস্ত হাইতি

ওয়াশিংটনে অবস্থিত হাইতি দূতাবাসের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান অ্যারিয়েল ডোমিনিক ইতোমধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্স, পেটি গোভ এলাকার নদীর যে সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে, ওই সেতুটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর ফল হবে ভয়াবহ। এতে করে আর্তদের কাছে ত্রাণ সরবরাহ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সমস্যাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে যে ব্যাপারটি, তা হলো, হাইতির এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উর্বর মাটি সবচেয়ে বেশি ফসল ফলাতো এবং এসব ফসল, ফসলী মাঠসহ ধ্বংস হয়ে গেছে।

ডোমিনিক জানান, ইতোমধ্যে সরকারি উদ্যোগে যোগাযোগব্যবস্থাকে কিছুটা হলেও চলনক্ষম করে তুলতে অবিরত খেটে চলেছে স্বেচ্ছাসেবী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী।

 

দেখা দিতে পারে মানবিক বিপর্যয়

বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সরেজমিন পরিদর্শনে দেখেছেন, সেতুসহ, সাধারণ রাস্তা ঝড়ে, মধ্যপথে গাছ পড়ে ভীষণরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে দুর্গম হয়ে উঠেছে। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে বানের পানি, দূষিত করে তুলেছে পানীয় জলের যতো আধার। এ ধরনের জলোচ্ছ্বাসের পর মহামারী হয়ে পানিবাহিত যে রোগগুলো দেখা দেয়, ওগুলোর জন্য বেশ অনুকূল পরিবেশ ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণস্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন পার্টনার্স ইন হেলথের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হাইতিতে কলেরা সংক্রমণ এ ধাক্কায় বহুগুণে প্রকট হয়ে উঠতে পারে। সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১২ সালের হারিকেন স্যান্ডির পর হাইতিতে কলেরার যে প্রকোপ দেখা দিয়েছিল তা আজ অব্দি বজায় আছে। এক্ষেত্রে নতুন করে ম্যাথিউর আক্রমণে রোগের সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

/বিএ/

আপ-/এসএ/

সম্পর্কিত
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে ‘ইতোমধ্যে রাজি হয়েছে’ ইরান: ট্রাম্প
আমি না থাকলে এত দিনে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম