রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, সিরিয়া প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে রুশ কর্তৃপক্ষ। শনিবার সুইজারল্যান্ডের লুসানে অনুষ্ঠেয় ওই আলোচনায় আরও অংশ নেবে সৌদি আরব ও তুরস্ক। এতে কাতারও যোগ দিতে পারে বলে জানা গেছে।
লাভরভ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, যেসব পক্ষ ‘সিরিয়ায় যুদ্ধের মাঠকে প্রভাবিত করছে’ কেবল তাদেরকেই এই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, ‘এই বৈঠকটি জাতিসংঘের সাধারণ সভার বিতর্কের মতো হবে না, বরং তা হবে ব্যবসায়িক আলোচনার মতোই।’
ব্রিটেন, ফান্স বা অন্যান্য ইউরোপীয় দেশকে এই আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়া এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের পর লন্ডনে ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এ বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন কেরি।
উল্লেখ্য, গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় কয়েক বছর ধরে চলে আসা সহিংসতা বন্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের ঘনিষ্ট মিত্র রাশিয়া এবং বিদ্রোহীদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর অস্ত্রবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে।
কিন্তু অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকরের পর থেকেই উভয় পক্ষ থেকেই তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে। এক পর্যায়ে ওই অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে যায়।
সিরিয়ান অবজারভেটরি তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ সূত্রে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে চার লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর খবরে বলা হয়, ২০১১ সালের ১৮ মার্চ গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা তিন লাখ ১ হাজার ৭৮১ জনের প্রাণহানি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। তবে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হবে বলে দাবি করেছেন তারা। সিরিয়ান অবজারভেটরি বলছে, ওই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা চার লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি হবে।
সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতমুখী। বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহযোগিতা করছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে বিমান হামলার নামে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। আর রাশিয়া বাশার আল-আসাদকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়। তারা আসাদ সরকারের সমর্থনে আইএস ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে মার্কিন-রুশ ‘ছায়াযুদ্ধ’ বলেও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/








