জরুরি ভিত্তিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের আহ্বান জাতিসংঘের

বিদেশ ডেস্ক
২০ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:১৮আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৬, ১৬:২২
image

সুন্দরবন অঞ্চলের জন্য রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ‘এক ভয়ানক হুমকি’ উল্লেখ করে এর নির্মাণ কাজ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো মঙ্গলবার ৩০ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়েছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরুদ্ধে আন্দোলন

সুন্দরবনের কাছে রামপালে প্রস্তাবিত এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ উদ্যোগে করা হচ্ছে। এটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ লাখ টন কয়লা এটিতে ব্যবহার করা হবে। ইউনেস্কো সুন্দরবনের কাছে এই বিশাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এরকম একটি প্রকল্প বাংলাদেশে সুন্দরবনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা (আইইউসিএন) বলেছে, এমন সম্ভাবনা খুব প্রবল যে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে হওয়া দূষণ সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। ইউনেস্কো বলেছে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এমন কোন জায়গায় সরিয়ে নেয়া উচিৎ, যাতে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি না হয়।

ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার এবং ইন্টারন্যাশনাল কনজার্ভেশন ইউনিয়ন (আইইউসিএন) এর তিনজন বিশেষজ্ঞ সরেজমিনে ঘুরে দেখে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের সীমানা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।

এর পরিবেশগত সমীক্ষার জন্য আইউসিএন যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তা ঠিকমত মেনে চলা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয় এই রিপোর্টে। এছাড়া সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতি এড়াতে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে ধরণের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং যেরকম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা উচিত, সেটাও করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করা হয়।

ইউনেস্কোর ওই প্রতিবেদনে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের বেশ কয়েক ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা জানানো হয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর পর সেখান থেকে থেকে নির্গত কয়লার ছাইকে সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য প্রধানতম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্য এবং পানিকে দ্বিতীয় হুমকি গণ্য করছে ইউনেস্কো। এই প্রকল্পকে ঘিরে সুন্দরবন এলাকায় যেভাবে জাহাজ চলাচল বাড়বে এবং ড্রেজিং করার দরকার হবে, সেটিও সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে। আর সবশেষে বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে ঐ অঞ্চলের সার্বিাক শিল্পায়ন এবং উন্নয়ন কর্মাকাণ্ডও সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে মনে করে ইউনেস্কো।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে। বাংলাদেশের পরিবেশবাদীরা এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এর বিরুদ্ধে গত কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছে। ২০১৮ সালে কয়লা ভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার কথা।

সূত্র: গার্ডিয়ান, বিবিসি।

/বিএ/

আপ - /এসএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম