মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারিকে আগাম ভোট দেওয়া মার্কিনিদের মধ্যে যাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, তাদের কাছে ভোট চাইলেন ট্রাম্প। হিলারিকে ভোট দিয়ে যারা অনুশোচনায় ভুগছেন, তাদেরকে নতুন করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উইসকনসিনের এক সমাবেশে ভোটারদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮টি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ চললেও কেবল উইসকনসিন, মিশিগান, মিনেসোটা ও পেনসিলভানিয়ায় আগাম ভোট পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।
উইসকনসিনের আগাম ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটিক ভোটার যারা এরইমধ্যে হিলারি ক্লিনটনের জন্য ভোট দিয়েছেন এবং অনুশোচনায় ভুগছেন-তারা এক অর্থে ভোট পরিবর্তন করতে চান। উইসকনসিন হলো সেই রাজ্যগুলোর একটি যেখানে আগাম ভোট দেওয়ার পর কারও যদি মনে হয় ভুল হয়েছে তবে ভোট পরিবর্তন করা যায়।’
সমাবেশে ট্রাম্প আশঙ্কা প্রকাশ করেন, হিলারি চিরতরে আমেরিকান স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেবেন। হিলারিকে আগাম ভোট দিয়ে যারা এখন অনুশোচনায় ভুগছেন সেই ভোটারদের চারটি রাজ্যে ভোট পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আবার তাদের নতুন করে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।
উইসকনসিনে রানিং মেট মাইক পেন্স ও গভর্নর স্কট ওয়াকারকে সঙ্গে নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। সেসময়, ওবামাকেয়ার তথা অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-এর তুমুল সমালোচনা করেন। তার দাবি, এ সুরক্ষা নীতি নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। ওবামাকেয়ারকে ‘বিপর্যয়’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে এ আইন পরিবর্তন করবেন।
সর্বশেষ জনমত জরিপে হিলারি ক্লিনটনকে এক পয়েন্ট পেছনে ফেলেছেন ট্রাম্প। গত মে মাসের পর এই প্রথম হিলারিকে জনপ্রিয়তায় পেছনে ফেলতে সক্ষম হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবিসি টেলিভিশন এবং ওয়াশিংটন পোস্ট পরিচালিত এ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ ভোটার বলেছেন, তারা নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থন দেবেন। অন্যদিকে,শতকরা ৪৫ ভাগ ভোটার বলছেন,তারা হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ই-মেইল কেলেঙ্কারিতে নতুন করে হিলারির বিরুদ্ধে মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর তদন্ত শুরুর ঘোষণার পর হিলারির জনপ্রিয়তায় কমে গিয়েছে। তবে জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করে হিলারি শিবির থেকে একে ‘বাজে ভোটিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এফবিআই-এর ওই ঘোষণায় হিলারির ওপর ভোটারদের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজনীতি বিশ্লেষকরাও এমন জরিপের মধ্যে অন্য গন্ধ খুঁজে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
/এফইউ/বিএ/








