ট্রাম্পকে ‘মানুষরূপী বোমা’ আখ্যা দিয়েছেন ‘ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন’খ্যাত সাড়া জাগানো মার্কিন তথ্যচিত্র নির্মাতা মাইকেল মুর। তিনি বলেছেন, তাকে ভোট দেওয়া সন্ত্রাসবাদকে পুষ্ট করার সামিল। শুক্রবার সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাসি নাউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফারেনহাইট নাইন ইলেভেন নামের তথ্যচিত্র বানিয়ে সাড়া জাগানো এই পরিচালকম হিলারিকেও পছন্দ না। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে ঠেকাতে এবং দেশের শীর্ষ পদে প্রথমবারের মতো একজন নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হিলারিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচক মুর বলেন, ‘ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া অনেকটা ব্রেক্সিটের মতো। তাকে ভোট দেওয়ার অর্থ সন্ত্রাসবাদকে আইনি সমর্থন দেওয়া।’
মুর মনে করেন, কর্মজীবী শ্বেতাঙ্গ ভোটাররা ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন, কিন্তু তাদের যে ক্ষোভ ভোটের দিন প্রশমিত হবে তা দেশকে পথে আনার জন্য সঠিক পদ্ধতি নয়। তিনি বলেন, ‘আমি এমন অনেককে দেখেছি যারা ট্রাম্পকে ভোট দেবেন। তারা বিক্ষুব্ধ এবং তাদের এই ক্ষোভের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। কারণ তারা চাকরি চান এবং তারা চাকরি হারিয়েছেন। এখন তারা চাকরি পেলেও অনেক কম বেতনে কাজ করতে হবে তাদের। ফলে তারা সিস্টেমের ওপর ক্ষুব্ধ।’
উল্লেখ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ভিয়াচেচলভ মলোটোভ। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ডে আক্রমণ চালায়। বিমান থেকে বোমা ফেলতে থাকে তারা। সে সময় রেডিওতে আবির্ভূত হয়ে মনোটোভ দাবি করেন, বিমান থেকে বোমা নয়, খাবার ফেলা হচ্ছে। তখনই ব্যাঙ্গ করে আকাশ থেকে বোমা বর্ষণকে ‘মলোটোভের রুটির ঝুড়ি’ বলা শুরু হয়। পরে সেখান থেকে ‘মলোটোভ বম্ব’ কথাটির প্রচলন হয়। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মাইকেল মুর মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্প আসলে এক মানুষরূপী বোমা, সমর্থকরা যাকে মার্কিন সিস্টেমে প্রবেশ করতে সাহায্য করবেন। এটি হবে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের নামান্তর।’
মুর মনে করেন ট্রাম্পপন্থী ভোটাররা মিশিগান, ওহাইয়ো, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনকে ‘ব্রেক্সিট রাজ্যে’ পরিণত করবেন। মুর বলেন, ‘ব্রেক্সিট একটি বড় অংশে পাশ করেছে তার কারণ হচ্ছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের শিল্প খাতের কর্মজীবী শ্রেণি ইউরোপ থেকে বের হতে চেয়েছে। কিন্তু জিনিসটা হয়ে যাওয়ার পর তারা উপলব্ধি করেছেন, ‘এখন তো আমাদের ইউরোপ থেকে বের হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা ইউরোপ থেকে বের হওয়ার জন্য ভোট দিচ্ছি না, কিন্তু ট্রাম্পকে ভোট দিলে আমেরিকাকেই আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়া হবে। ’
/ইউআর/বিএ/








