মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বুথ ফেরত জরিপে উঠে এসেছে এক বিভক্ত মার্কিন সমাজের চিত্র। যেখানে বর্ণ, লিঙ্গীয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভক্ত ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসি-র বুথ ফেরত জরিপে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে যাদের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের ৬৫ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর হিলারি পেয়েছেন ২৯ শতাংশের সমর্থন। আবার শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে যাদের কলেজ ডিগ্রি রয়েছে, তাদের মধ্যে হিলারি ও ট্রাম্পের সমর্থন প্রায় সমান সমান।
যে ভোটারদের বয়স ৩০ বছরের নিচে, তাদের মধ্যে হিলারিকে সমর্থন দিচ্ছে ৫১ শতাংশ, যেখানে ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছে ৩৪ শতাংশ।
এমএসএনবিসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়, দলীয় সমর্থনের হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা সাত পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তাদের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৩৮ শতাংশের। অপরদিকে, রিপাবলিকানদের প্রতি রয়েছে ৩১ শতাংশের সমর্থন।
তবে ন্যাশনাল ইলেকশন পুল-এর ছয়জন সদস্য সতর্ক করেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা রাতারাতি বদলে যেতে পারে।
বুথ ফেরত জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। হিলারি ভাবমূর্তিকে পছন্দ করছেন ৪৪ শতাংশ আর অপছন্দ করছেন ৫৪ শতাংশ। অপরদিকে, ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে মাত্র ৩৭ শতাংশ পছন্দ করছেন আর অপছন্দ করছে ৬১ শতাংশ।
৩৮ শতাংশ ভোটার মনে করেন হিলারি সৎ ও বিশ্বাসযোগ্য। অপরদিকে, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ৩২ শতাংশ ভোটার এমনটা মনে করেন।
ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ৪২ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা নিজের পছন্দ থেকে কোনও এক প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। আরও ৩১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। এক-চুর্থাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা অপর প্রার্থীকে অপছন্দ করেন বলে এই প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
সিএনএন-এর তথ্যমতে, তিন-চতুর্থাংশ ভোটার অক্টোবরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কাকে ভোট দেবেন। ১৩ শতাংশ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অক্টোবরে, আর মাত্র ৭ শতাংশ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫৪ শতাংশ ভোটার ওবামার শাসনকালকে সমর্থন করছেন, অপ্রদিকে ৪৫ শতাংশ ওবামাকে অযোগ্য মনে করেন।
৫২ শতাংশ ভোটারই মনে করেন, ভোটে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বুথ ফেরত জরিপটি পরিচালনা করেছে ন্যাশনাল ইলেকশন পুল। তাদের সঙ্গে ছিল এবিসি নিউজ, সিবিএস নিউজ, সিএনএন, ফক্স নিউজ, এনবিসি নিউজ এবং এসোসিয়েটেড প্রেস। ভোটের দিনে বিকাল ৫টার মধ্যে ১৫ হাজার ৪৫৫ জন ভোটারের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে এই জরিপ প্রস্তুত করা হয়।
সূত্র: পলিটিকো।
/এসএ/








