মার্কিন শীর্ষ তেল কোম্পানি এক্সন মোবিলের প্রধান নির্বাহী রেক্স টিলারসনকে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন। এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ট সম্পর্ক’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ৬৪ বছর বয়সী টিলারসনের প্রশংসা করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যবসায়ী নেতা।’
টিলারসন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘রেক্স টিলারসনের কাজ মার্কিন স্বপ্নেরই প্রতিমূর্তি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার যোগ্যতা, বিস্তর অভিজ্ঞতা এবং ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়া তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে।’
টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখন তার নিয়োগ সিনেট থেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সিনেটের অনুমোদনের পরই তা কার্যকর হবে।
এর আগে শনিবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখা করেন টিলারসনের সঙ্গে। এক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে টিলারসনের এটি ছিল দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। আর এসব সাক্ষাতের ফলাফল হিসেবেই এবার টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘোষণা আসলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় পদটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। ধারণা করা হচ্ছে, টিলারসনের সঙ্গে রুশ সম্পর্কের কারণে আগামী মার্কিন প্রশাসনে রাশিয়া বিশেষ সুবিধা পেতে পারে।
টিলারসন ৪১ বছর ধরে এক্সন মোবিলে কাজ করছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি রুশ রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানি রোসনেফটের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছেন।
২০১১ সালে রাশিয়ার ওপর মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় রোসনেফটের সঙ্গে এক্সনের যৌথ কাজের সমাপ্তি ঘটে। তখন রোসনেফটের সঙ্গে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ছিল এক্সনের। আর এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন টিলারসন।
২০১৩ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে টিলারসনকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ পুরস্কার প্রদান করে।
এর পরের বছরই রুশ ফেডারেশনে ইউক্রেনের বিতর্কিত প্রদেশ ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয় রাশিয়া। তখনও এই সিদ্ধান্তকে ‘ক্ষতিকর’ উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন টিলারসন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফল জানান, টিলারসনের সঙ্গে রোসনেফটের প্রধান নির্বাহী ইগোর সেচিনের ‘খুবই ঘনিষ্ট’ সম্পর্ক রয়েছে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগোর সেচিন ১৯৯০ সাল থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধু। মার্কিন নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের জন্য ইগোর সেচিনকে সরাসরি দোষারোপ করছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি।
/এসএ/








