আলেপ্পো থেকে আটকা পড়া বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহীদের সরিয়ে নিতে নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছে সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীরা। আর এজন্য আটকা পড়া লোকজন এখন নগরীটি ত্যাগ করার প্রতীক্ষায় রয়েছেন।
সরকার ও বিদ্রোহীদের সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যগুলো জানিয়েছে, নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়া মানুষদের সেখান থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
তবে নতুন চুক্তির কথা নিশ্চিত করা হলেও ত্রাণকর্মীরা এখনও আটকা পড়া মানুষদের মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার যুদ্ধে শেষ হওয়ার ঘোষণার পর আলেপ্পো ছেড়ে যাওয়ার চুক্তি হয় সিরীয় বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে। কিন্তু বুধবারই অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে ব্যাপক দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরে বৃহস্পতিবার এক ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় হাজার বেসামরিক ও বিদ্রোহী আলেপ্পো ছেড়ে আসতে সক্ষম হন। তবে একদিন পরই ওই চুক্তি ভেঙে পড়ে। আলেপ্পো নগরী থেকে বেসামরিক নাগরিক ও বিদ্রোহীদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ দিয়েছিল সিরীয় সরকার তা বাতিল করা হয়।
বিদ্রোহীরা আলেপ্পো থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে আলেপ্পো ছাড়ার সুযোগটি বাতিল করে সিরীয় সরকার। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বিদ্রোহীরা তাদের সঙ্গে বন্দিদেরও নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
সরকারি পক্ষের দাবি, বিদ্রোহীদের অবরোধের মধ্যে থাকা ইদলিব প্রদেশেরশিয়া অধ্যুষিত কেফরায়া ও ফুয়া শহরের মানুষদের বাইরে আসার অনুমতি দেওয়ার পরই নতুন চুক্তি কার্যকর হবে। ওই এলাকাটি বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ করে।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষদূত স্তেফান ডি মিস্তুরা জানিয়েছেন, ‘সেখানে ৪০ হাজার বেসামরিকসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’ তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক সমাধান ও কার্যকর অস্ত্রবিরতি চুক্তি সম্ভব না হলে ইদলিবই হতে পারে পরবর্তী আলেপ্পো।’
২০১২ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল পূর্ব আলেপ্পো। সম্প্রতি সরকারি বাহিনী অঞ্চলটির অধিকাংশ জায়গা দখল করে নেওয়ায় বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/








