গত বছরের পর এবারও ১৫০ অথবা তার চেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিক দিয়ে এটি এক নতুন রেকর্ড বলে দাবি মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভের।
লন্ডনভিত্তিক সংগঠন রিপ্রিভের দাবি, সৌদি আরবের গোপন আদালতে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর ও রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে সংগঠনটি দেখিয়েছে, চলতি বছরে ১৫০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালে ১৫৮ জন, ২০১৪ সালে ৮৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় দেশটিতে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ছাড়া কুয়েতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বয়স কমানো হচ্ছে।
রিপ্রিভ জানায়, গোপন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মানুষদের একটি বড় অংশই ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’ বিষয়ক মামলার আসামি। তাদের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী রয়েছেন, যারা নির্যাতনের কারণেই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
শিয়া ধর্মীয় তাত্ত্বিক শেখ নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
আলী আল-নিমর, দাওদ আল-মারহুন এবং আবদুল্লাহ আল-জাহেরকে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। ২০০২ সালে আলী আল-নিমরকে আটক করার সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। এদের সবাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদেরও গোপন আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, দেশটির রাজতান্ত্রিক শাসকরা ইসলামকে রাজনৈতিক দমনপীড়ন চালাতে ব্যবহার করে থাকেন।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একদিনেই সৌদি আরবে ৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/








