ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেকে হটানোর পরিকল্পনা ছিল দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের। মঙ্গলবার ফিলিপাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ম্যানিলা টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নীলনকশার নেপথ্যে ছিলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফিলিপ গোল্ডবার্গ। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাকে সরাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকেও সুপারিশ করেছিলেন তিনি।
সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নীলনকশার অংশ হিসেবে ফিলিপাইনকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এছাড়া দুয়ার্তে-বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি, দুয়ার্তে প্রশাসনের ছিদ্রান্বেষণ এবং দেড় বছরের মধ্যে দুয়ার্তে’কে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা ছিল সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতের।
এদিকে দ্য ম্যানিলা টাইমসের ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ ডিসেম্বর বুধবার ফিলিপাইনে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস থেকে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তারা বলছে, বাস্তবে দুয়ার্তে’কে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য এ ধরনের কোনও ‘নীলনকশা’র অস্তিত্ব নেই।
ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের প্রেস অ্যাটাশে মলি কোসিনা বলেন, ওই প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে মার্কিন দূতাবাস সুনিশ্চিতভাবে তা অস্বীকার করছে।
এক বিবৃতিতে মলি কোসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের সম্পর্ক গভীর। দুই দেশের মধ্যকার মৈত্রীর সম্পর্ক ‘এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক’। এটা তৈরি হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগ, মানবাধিকার এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের শক্তিশালী সম্পর্ক এবং সামাজিক বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে। আমরা ফিলিপাইনের সঙ্গে আমাদের ব্যাপক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছি। ফিলিপাইনের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার মতো পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহু ব্যাপারে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাবো।’
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকেও দুয়ার্তে’কে হটানোর পরিকল্পনার খবর অস্বীকার করা হয়।
কথিত এ নীলনকশার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের দফতর মালাকানাং। মালাকানাং-এর মুখপাত্র আরনেস্টো অ্যাবেলা সাংবাদিকদের বলেন, আমি জানতে পেরেছি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনও কিছুর কথা অস্বীকার করা হয়েছে। তবে দুয়ার্তে’কে হটানোর যে কোনও পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রেসিডেন্টের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। জনগণ তার কাজের প্রশংসা করছেন।
/এমপি/








