ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের

ললিত কে ঝা, ওয়াশিংটন
২১ জানুয়ারি ২০১৭, ০৩:২৬আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৭, ০৩:২৭

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর না চাপানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সোমবার ক্যাপিটল হিলে দেশটির প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান। গত নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ট্রাম্প।

বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন ও ভালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবো। কিন্তু আমাদের এটা করার আগে বুঝতে হবে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সবার অধিকার সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত অন্য কারও ওপর চাপাবো না। কিন্তু উদাহারণ হিসেবে আমরা সবাইকে সেটা অনুসরণ করার আহ্বান জানাবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাপী ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের পুরাতন মিত্র জোটকে আরও শক্তিশালী করবো এবং নতুন করে আরও মিত্র জোট গঠন করবো। আর এভাবেই আমরা পৃথিবী থেকে ইসলামী মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদ মুছে ফেলবো।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের পরপরই হোয়াইট হাউজ থেকে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ‘এসব ইসলামী গ্রুপকে পরাজিত ও নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে যৌথভাবে অথবা জোটভুক্ত হয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে।’

হোয়াইট হাউজ থেকে আরও জানানো হয়, সন্ত্রাসী গ্রুপে অর্থায়ন বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করবে। এছাড়া অনলাইনে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপকে নিষ্ক্রিয় করতে এবং তাদের দলে লোক নিয়োগ ও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সাইবার যুক্ত পরিচালনা করবে।

ট্রাম্প তার ভাষণে আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সামগ্রিক আনুগত্য প্রকাশ করা এবং দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে আমরা একে অপরের প্রতি আনুগত্য ফিরিয়ে আনবো। যখনই আপনি দেশকে মন থেকে ভালোবাসবেন তখন দেশে কুসংস্কারের কোনও জায়গা থাকবে না।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে ট্রাম্প স্বপ্নের যুক্তরাষ্ট্র গড়ার প্রতিজ্ঞা করেন। যেখানে তার সরকারের প্রধান কাজ হবে আমেরিকাকে সবার ওপরে স্থান করে দেওয়া।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমেরিকা নিজস্ব শিল্পকলকারখানার আদলে বিদেশি কারখানার উন্নয়ন করেছে, নিজেদের সামরিক বাহিনীকে বঞ্চিত করে অন্য দেশের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছে, নিজেদের সীমান্ত রক্ষায় উদ্যোগী না হয়ে অন্যদেশের সীমান্ত রক্ষায় সহায়তা দিয়েছে এবং আমেরিকার অবকাঠামো মেরামত না করে অন্যদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অন্য দেশকে ধনী করেছি কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের সম্পদ, শক্তি এবং মনোবল কমেছে। একে একে আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে এবং আমরা আধিপত্য হারিয়েছি। তবে অন্যদের এগিয়ে নিতে মিলিয়ন মিলিয়ন আমেরিকান পেছনে থেকে কাজ করেছেন।’

ট্রাম্প বলেন, আজকের পর থেকে নতুন লক্ষ্যে আমাদের দেশ পরিচালিত হবে। এখন থেকে সবকিছুর ওপর আমেরিকার অবস্থান। এখন থেকে ব্যবসা, ট্যাক্স, অভিবাসী, বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিটি সিদ্ধান্তে আগে আমেরিকান শ্রমিক ও আমেরিকান পরিবারের কথা বিবেচনা করা হবে।

অন্য দেশের আক্রমণ থেকে নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষার বিষয়ে নিজের প্রতিশ্রতির পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শেষ নিঃশ্বাস নেওয়া পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করে যাবো এবং আমি এদেশের জনগণকে কখনও খাটো হতে দেবো না। আমেরিকা আবারও জিতবে, যা আগে কখনও হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও আমাদের চাকরি, সীমান্ত, সম্পদ এবং স্বপ্নকে ফিরে পাবো।

/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম