ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে মুসলিম দেশের শিল্পীরা

বিদেশ ডেস্ক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৪:০১আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৮:৩৫

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে মুসলিম দেশের শিল্পীরা সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ওইসব দেশের শিল্পীরা বিপাকে পড়েছেন। এ ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মুসলিম দেশের শিল্পীরা  আসতে পারছেন না। আবার পুনরায় দেশে ফেরার সুযোগ হারানোর ভয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও মুসলমান শিল্পীরা বাইরের কোনও দেশেও যেতে পারছেন না। বুধবার ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর যারা বিপাকে পড়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এবার অস্কারে মনোনয়ন পাওয়া ইরানি চলচ্চিত্র পরিচালক আজগর ফারহাদি। তিনি এবার অস্কার পুরস্কার অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না। যেখানে তার পরিচালিত ‘সেলসম্যান’ ছবি এবারের সেরা বিদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছে। এছাড়া ওই চলচ্চিত্রের প্রধান অভিনেত্রী তারানাহ আলিদোস্তি ইতোমধ্যে ট্রাস্পের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে অস্কার বর্জন করেছেন।   

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ডধারী ইরানি সঙ্গীতবাদক সোরেনা সেফারি  বলেন,  ‘এখন আমার আন্তজার্তিক সব কনসার্ট বন্ধ করতে হচ্ছে। আমি জানি না যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের আর এই দেশে ঢুকতে দেবে কিনা।’ দেশের বাইরে তার আটটি কনসার্ট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  ‘এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার।’   

ন্যাশনাল হেরিটেজ ফেলোশিপজয়ী ইরানি সঙ্গীতশিল্পী রহিম আলহাজ তার আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রে  সফর বাতিল করেছেন।

সিরিয়ান সঙ্গীতযন্ত্র বাদক কিনান আজমে গত ১৬ বছর ধরে  নিউ ইউর্কে আছেন। তার মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি যেতে পারছেন না। একইভাবে ইরানের ভাস্কর শাহপোর পৌয়ানও হংকংও বিপাকে পড়েছেন।

কুর্দি চলচ্চিত্র প্রযোজক মাহমুদ আক্কাস বলেন,  ‘মায়ামি চলচ্চিত্র উৎসবে হোসেইন হাসানের ছবি ‘দ্য ডার্ক উইন্ড’-এর দক্ষিণ আমেরিকায় প্রিমিয়ার শো ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করলে সমস্যা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে তাকে। এরপরই তিনি ভিসার আবেদনপত্র তুলে নেন।’  

গত বছরের এপ্রিল থেকে গ্রিন কার্ড নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন কুয়েতি বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনের কানাডিয়ান কৌতুক অভিনেতা ইমান আল হোসেইনি।  ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর তিনি  যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পর ২৮ জানুয়ারি তাকে এক ঘণ্টার মতো আটকে রাখা হয়। আটকের পর তার হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কানাডিয়ান মুসলিম কৌতুক অভিনেতা দিন ওবায়েদুল্লা বলেন, ‘এই সময়টা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার বাবা ফিলিস্তিনি শরণার্থী ছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প যদি ক্ষমতায় থাকতো, তাহলে আমার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে আসতেন না, আমিও হয়তো এখানে থাকতাম না।’

/এমডিপি/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম