চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লো ইরান। তেহরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচিকে কারণ দেখিয়ে ইরানের ওপর নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ইরানের ১৩ জন ব্যক্তি ও এক ডজন কোম্পানির বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফিন বলেন, 'ইরানের যেসব উস্কানি আমাদের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করে সেগুলো ট্রাম্প প্রশাসন আর সহ্য করবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ইরানের 'বৈরি ও যুদ্ধভাবাপন্ন' কর্মকাণ্ডের প্রতি চোখে পট্টি বেঁধে রাখার দিন শেষ'।
হোয়াইট হাউসের বক্তৃতায় ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফিন আগেই জানিয়েছিলেন সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কথা। ইরানের আচরণকে অস্থিতিশীল আখ্যা দিয়ে এ ধরনের আচরণ প্রতিহত করার জন্য দেশটির ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের এ পরিকল্পনার ব্যাপারে জানাশোনা রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিল। শুক্রবারই এ ঘোষণা আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল তারা। আর তা সত্যি হওয়ায় এটিই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বগ্রহণের পর ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।
এদিকে শনিবার মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশটির ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে ২৫টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ট্রাম্পের দায়িত্ব নে্ওয়ার পর ইরানের ওপর প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো।
এর আগে ট্রাম্প টুইটারে বলেন, ‘ইরান আগুন নিয়ে খেলছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা তাদেরকে যেভাবে দয়া দেখিয়েছে, না তাকে তারা কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছে, না আমাকে।’
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) প্রধান জন স্মিথ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং ব্যালেস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বিকাশ অব্যাহত রেখেছে যা, এ আঞ্চলের, বিশ্বব্যাপী থাকা আমাদের অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি চাপিয়ে দিয়েছে।’
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করায় ইতোপূর্বে বারাক ওবামান প্রশাসনও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর রবিবার প্রথমবারের মতো ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন,তেহরান থেকে ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে সেমনান এলাকার কাছের একটি অঞ্চলে রবিবার এ পরীক্ষা চালানো হয়। খোররামশাহ নামের এ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝারি পাল্লার। বিস্ফোরণের পূর্বে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৬০০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। ইরানের পারমাণবিক চুক্তির স্বাক্ষরের পর জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ইরান এ ধরনের কোনও পরীক্ষা চালাবে না। জাতিসংঘের এ প্রস্তাব অনুসারে ২০১৫ সালে ২০ জুলাই থেকে পরবর্তী ৮ বছর ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে পারবে না ইরান। অবশ্য, ইরানের ওই সিদ্ধান্তের জন্য এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেশটিকে পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গের দায় দেওয়া হয়নি।
/বিএ/








