মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আদালতের রুল জারির মাধ্যমে স্থগিত হওয়া সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় প্রবর্তন করবেন। একই সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রুল জারি করা বিচারকেরও সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্টের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বিচারককে তথাকথিত বিচারক যার হাস্যকর মত যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে দূরে রাখে। বিচারক জেমস ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে রুল জারি করেছেন।
টুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, এই তথাকথিত বিচারকের মত নিশ্চিতভাবেই আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে দেশ থেকে দূরে রাখবে, হাস্যকর এবং পুনরায় প্রবর্তন করা হবে।
বিচারকের রুলের পরই বিভিন্ন বিমান সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা শুরু করে।
এদিকে, ট্রাম্প বিচারকের রুলের বিরোধিতা করলেও শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। একইভাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্টেট ডিপার্টমেন্টও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী অভিবাসন আদেশকে ‘আইনসম্মত ও যথাযথ’ বলে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচারকের এই রুল জারির বিরুদ্ধে তারা আদালতেই চ্যালেঞ্জ জানাবেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র শন স্পাইসার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার বিভাগ ওই স্থগিতাদেশ রদ করতে পদক্ষেপ নেবে।’
স্পাইসার বলেন, মার্কিন ভূখণ্ড নিরাপদ রাখতেই প্রেসিডেন্ট ওই আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মার্কিন জনগণকে রক্ষার সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের রয়েছে।’ তবে স্পাইসারের ওই বিবৃতি ১০ মিনিট পর পুনরায় প্রকাশ করা হয়, সেখানে ‘ক্ষুব্ধ’ শব্দটিকে বাদ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করতে ২৭ জানুয়ারি ওই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। আদেশ অনুযায়ী, আগামী চার মাস যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে। সিরীয়দের জন্য এই আদেশ পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত বহাল থাকবে। ৩ মাস বন্ধ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি। ট্রাম্পের নির্বাহী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বৈত-নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া (গ্রিন কার্ড হোল্ডার) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ওই আদেশ কার্যকর হবে। ট্রাম্পের ওই আদেশের পর তীব্র সমালোচনা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্দোলন, বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝির এক পর্যায়ে মামলা হয় সিয়াটলের আদালতে। শুক্রবার ট্রাম্পের মুসলিমবিরোধী নিষেধাজ্ঞায় সিয়াটলের সেই আদালতে দেওয়া স্থগিতাদেশ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন।
/এএ/








