সিআইএ-র গুপ্তচরবৃত্তির গোপন নথি ফাঁস করে মার্কিন নজরদারি প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ক্ষুণ্ন হওয়ার যে দাবি উইকিলিকস করেছে, তা তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই তদন্তে যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে তারা।
কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই উইকিলিকসের ওই নথি ফাঁসের তদন্ত করছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে উইকিলিকস সিআইএ-র হাজার হাজার নথি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। ক্ষমতাশালীদের তথ্য ফাঁস করে বিশ্বব্যাপী মার্কিন আধিপত্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া এই বিকল্প সংবাদমাধ্যমটি দাবি করছে, তাদের এবারের ফাঁস করা তথ্যগুলোর কারণে বিশ্বব্যাপী নজরদারির পথপদ্ধতিতে সিআইএ পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
ফাঁস হওয়া ওই নথিতে সিআইএ-র গোপন নজরদারির বিভিন্ন পদ্ধতির বিবরণ রয়েছে। এসব নথিতে বলা হয়েছে, স্মার্টফোন, কম্পিউটার এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এমন টেলিভিশনেও নজরদারি চালিয়ে থাকে সিআইএ। তবে যে সফটওয়্যার টুলের মাধ্যমে এতোদিন ধরে এ নজরদারি চালানো হয়েছে সেটা পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না। আর যে ত্রুটির কারণে এই তথ্য ফাঁস হয়েছে, এবার তার অনুসন্ধানেই নেমেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
মঙ্গলবার এই ফাঁস সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিআইএ, এফবিআই এবং প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউস।
তবে বুধবার সিআইএ-র এক মুখপাত্র বিবিসি-কে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে সন্ত্রাসী ও শত্রুদের বিরুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে উইকিলিকসের ফাঁস জনগণের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ। এসব ফাঁসে কেবল মার্কিন কর্মকর্তা ও তাদের কর্মসূচীই ব্যাহত হয় না। বরং তা আমাদের শত্রুদের জন্য হাতিয়ার। এসব তথ্য আমাদের জন্য ক্ষতিকর।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাঁস হওয়া নথিগুলো উইকিলিকসের কাছে কিভাবে পৌঁছাল, তার তদন্ত করছেন কর্মকর্তারা। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ওই তথ্য ফাঁস সিআইএ-র ভেতর থেকেই করা হয়েছে নাকি বাইরে থেকে, তা নিয়েও চলছে তদন্ত।
টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে উইকিলিকস বলছে, ‘সম্প্রতি সিআইএ তার নজরদারির হাতিয়ারগুলোর বেশিরভাগেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাখ লাখ লাইনের কোড যা সিআইএর নজরদারি সক্ষমতার সবটুকুকে সামনে নিয়ে আসে।’
ফাঁসকৃত এসব নথি ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সিআইএ-র সেন্টার ফর সাইবার ইন্টেলিজেন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। এসব নথিকে নিজেদের ফাঁস করা সবচেয়ে বড় আকারের গোপন নথি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে উইকিলিকস। তাদের দাবি, প্রকাশিত নথিগুলো এ সম্পর্কিত ফাঁসের প্রথম কিস্তি। শিগগিরই আরও অনেক নথি প্রকাশিত হবে।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, এটা সিআইএ-র ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নথি ফাঁসের ঘটনা। ইতোপূর্বে অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথির চেয়ে এটি আকারে অনেক বড়।
সূত্র: বিবিসি।
/এসএ/বিএ/








